নতুন পোস্ট

বীররসের শিল্প-সাহিত্য এবং চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান : আমিনুল ইসলাম

বীররসের শিল্প-সাহিত্য এবং চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান

আমিনুল ইসলাম

‘জানি কবিতার চেয়ে তুমি সুন্দরতম
ওগো মোর ভাবনার নায়িকা
তুমি ইলোরা অজন্তার কারুকা
কোনো শিল্পীমনের তুমি চিত্রলেখা।।’

মানবসভ্যতার আদি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন তার শিল্পসাহিত্য। শিল্পসাহিত্য হচ্ছে সময়ের আয়না, মানুষের চাওয়া-পাওয়ার নান্দনিক আরশি। মানুষ কেমন হতে চায়, জীবনসাথিকে কেমন দেখতে চায়, তা মূলত ফুটে ওঠে তার শিল্পসাহিত্যে। কিন্তু শিল্পসাহিত্যের একটা ঘাটতি বা দুর্বলতার দিকও আছে। এসব মূলত পুরুষদের সৃষ্টি; পুরুষদের ভাবনার ও কল্পনার ফসল। অথচ মানবগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। শুরুতে উদ্ধৃত চরণগুলি প্রখ্যাত গীতিকবি গাজী মাযহারুল আনোয়ার রচিত একটি গানের স্থায়ী। গানটি ‘মেঘের পরে মেঘ’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিল; কণ্ঠ দিয়েছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। এটি আমার খুবই প্রিয় একটি গান। কিন্তু গানের বাণীতে নায়ক যে-নারীকে নায়িকা হিসেবে দেখেছেন, কল্পনা করেছেন , সেই নারী কিন্তু ইলোরা-অজন্তার গুহাচিত্রে অংকিত নারীদের মতো। ইলোরা-অজন্তা গুহাচিত্রে অংকিত নারীরা কিন্তু কোনো বীরনারী ছিল না; তারা ছিল ‘ মনোরঞ্জনের যোগ্য’ কোমলপেলব শরীরের মানুষ যারা রিরংসা-উদ্রেককারী নানা শারীরিক ভঙিমা প্রদর্শনে সমর্থ ও দক্ষ। সেখানে নারীরা যৌনভঙিমার দৃশ্যে ক্রীড়ারত। কিন্তু ডারুইন বলছেন, জীবন হচ্ছে অস্তিত্বের লড়াই; সে লড়াইয়ে যারা বিজয়ী হয়, তারাই টিকে থাকে। তিনি এর নাম দিয়েছেন: Survival of the fittest।

গোটা দুনিয়া একসময় ছিল পশুশিকারী সমাজ; অতঃপর কৃষিসমাজ। ভারতীয় উপমহাদেশ মূলত কৃষিপ্রধান সমাজ চিরকাল। বলা যায় এখনও। সমাজে বাহুবল প্রধান অস্ত্র। আগে যখন আজকের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ছিল না , তখন লাঠি ও তলোয়ার ছিল প্রধান হাতিয়ার। নদীমাতৃক বাংলা ভূগোলে লাঠিই ছিল– রাইফেল,কামান, বোমা, বিমান–সবকিছু। এটি চালনার জন্য প্রশিক্ষণ ছিল ‘লাঠিখেলা’। যারা এ খেলায় পারদর্শী ছিলেন, তাদের বলা হতো লাঠিয়াল। আমাদের অনেক সিনেমায় এই লাঠিয়াল বীরদের নন্দিত নায়কের ভূমিকায় দেখা যেতো। আমরো যাকে পল্লীকবি বলে আখ্যায়িত করেছি , সেই জসীমউদদীনের অনেক কবিতার নায়ক হচ্ছেন লাঠিয়াল বীর। ‘নকশীকাঁথার মাঠ’ এর রূপাই, ‘সোজনবাদিয়ার ঘাট’ এর সোজন ছিলেন যুবক লাঠিয়াল বীর। তাদের বাহুগুলি বলিউড অভিনেতা সালমান খানের মতো হুবহু না হলেও তারা শারীরিকভাবে খুবই শক্তিশালী ছিল; দক্ষ খেলোয়াড় ও লড়াইয়ে পারদর্শী ছিল। গ্রামীণ চর-দখলের সমর-সংস্কৃতিতে তারা ছিল ডারুইনের ভাষায় বলতে গেলে- Fittest । রূপাই ছিল এমন:

‘আখড়াতে তার বাঁশের লাঠি অনেক মানে মানী,
খেলার দলে তারে নিয়েই সবার টানাটানি।
জারীর গানে তাহার গলা উঠে সবার আগে,
‘শাল-সুন্দী-বেত’ যেন ও, সকল কাজেই লাগে।
বুড়োরা কয়, ছেলে নয় ও, পাগাল লোহা যেন,
রূপাই যেমন বাপের বেটা, কেউ দেখেছ হেন?
যদিও রূপা নয়কো রূপাই, রূপার চেয়ে দামী,
এক কালেতে ওরই নামে সব গাঁ হবে নামী। ’

আমরা কবিতায় গানে আর্টে ভাস্কর্যে ‘বীর ছেলে’ দের দেখেছি কিন্তু নারীরা কেমনভাবে চিত্রিত হয়েছে সেসব শিল্পে? শুরুতেই একটি গান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। বলা যায়– শিল্পসাহিত্যে নারীরা মূলত কোমলপেলব তন্বী হিসেবে চিত্রিত ও নন্দিত হয়েছেন। কিন্তু ব্যতিক্রমও ঘটেছে। সোনাভানের পুঁথিতে বীর নারী সোনাভান চিত্রিত হয়েছেন বলিষ্ঠবাহু দীর্ঘদেহী মানুষ হিসেবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এবং অব্যবহিত পরেও গ্রাম এলাকায় পুঁথি ছিল খুবই জনপ্রিয়। অন্য অনেক পুঁথির সাথে সোনাভানকে নিয়ে রচিত পুঁথিটিও দারুণ জনপ্রিয়তা লাখ করেছিল। সেই পুঁথি পড়ে জানা যায়– সোনাভান নামের নারী ছিলেন বিরাট বীর যার শক্তিমত্তার সঙ্গে তুলনীয় কোনো নারী-পুরুষ সেই অঞ্চলে ছিল না। অঞ্চলািট ছিল বর্তমান গাজীপুরের টঙ্গী। পুঁথি অনুসারে সোনাভানের বর্ণনা এমন:

‘আশি মণ খানা খায় বিবি সোনাভান,
দুইশ ঘড়ার পানি করিলেন পান।
তিনশ মণের গদা হাতেতে লইয়া,
রুখিয়া চলিল বীর, গর্জিয়া গর্জিয়া।
এয়ছা জোরে মারে হাঁক বিবি সোনাভান,
আসমানে ঝনঝনা বাজে কাঁপিল ময়দান।’

দিল্লীর প্রথম সম্রাজ্ঞী রাজিয়া সুলতানার অসিচালনা, অশ্বচালনা এবং অশ্বযুদ্ধের মাধ্যমে জয়লাভকরত সিংহাসনে সাফল্যের সাথে টিকে থাকা ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা জানি। এ সংক্রান্ত ইতিহাস এখনও টাটকা। ইতিহাসের আরেক বীরনারী চাঁদ সুলতানা। দক্ষিণাত্যের আহমদ নগরের বা গোলকুণ্ডার এই বীর নারীর প্রশংসায় রচিত হয়েছে অনেক কাব্য ও কাহিনী । তিনি ছিলেন আহমদনগরের সুলতানের কন্যা এবং আবার বিজাপুর সুলতানের স্ত্রী। বাস্তবে তিনি ছিলেন দক্ষিণাত্যের রাজশক্তির প্রতীক। প্রায় ১০ বছর শাসনের পর তিনি ক্ষমতা হারান এবং বন্দি হোন।বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বিজাপুর ছেড়ে আহমদনগরে চলে আসেন এবং ১৫৯৬ থেকে ১৫৯৯ পর্যন্ত রিজেন্ট হয়ে রাজক্ষমতা প্রয়োগ করেন। চাঁদ সুলতানার অন্যতম বড় সাফল্য ১৫৯৫ সালে সফলতার সাথে মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করা। আহমেদনগর দুর্গ রক্ষায় সম্মুখ যুদ্ধের মূল কৃতিত্ব তারই। এই অভাবনীয় সাফল্য তাকে রাজনীতির সাথে রণাঙ্গনের নায়িকাও করে তোলে। আবার শিক্ষা ও সংস্কৃতিতেও তিনি ছিলেন তার সময়ের চেয়ে এগিয়ে। তিনি আরবি, ফার্সি, তুর্কি, মারাঠি ও কন্নড় ভাষায় দক্ষ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন সুদক্ষ সেতারবাদক। বড় তুলিতে ফুল আঁকা ছিল তাঁর অন্যতম পছন্দ। পরবর্তীতে তাঁকে নিয়েই ভারতীয় শিল্পীগণ বহু ছবি এঁকেছেন একের এক এক। সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম চাঁদ সুলতানার বীরত্বগাঁথা রচনা করেছেন গানে গানে:

চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি।
তুমি দেখাইলে মহিমান্বিতা নারী কী শক্তিমতী।।
শিখালে কাঁকন চুড়ি পরিয়াও নারী,
ধরিতে পারে যে উদ্ধত তরবারি,
না রহিত অবরোধের দুর্গ, হতো না এ দুর্গতি।।
তুমি দেখালে নারীর শক্তি স্বরূপ চিন্ময়ী কল্যাণী,
ভারত জয়ীর দর্প নাশিয়া মুছালে নারীর গ্লানি।
তুমি গোলকুন্ডার কোহিনূর হীরা সম
আজো ইতিহাসে জ্বলিতেছে নিরুপম,
রণরঙ্গিণী ফিরে এসো, তুমি ফিরিয়া আসিলে,
ফিরিয়া আসিবে লক্ষী ও সরস্বতী।

আমরা বলি বাঙালি বীরের জাত কিন্তু বাস্তবে বাঙালি জাতির কোনো “বীররসের” কবিতা, গান বা শিল্পকর্ম ছিলো না বললেই চলে। মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ’ কিছুটা বীররসের স্বাদ পাওয়া যায়। তবে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এসে প্রথমবারের মতো এবং অতুলনীয় সাফল্যের সাথে বাংলা কবিতায়, গানে, প্রবন্ধে সেই বীররসের প্রবর্তন ও সংযোজন ঘটান, ” আমি সহসা আমারে চিনেছি আমার খুলিয়া গিয়াছে সব বাধ” এই চেতনায় নিজেকে আবিস্কার করে ( ভাত খেয়ে খেয়ে “ভেতো ও ভীতু”) বাঙালি প্রথমবারের মতো বলে উঠেছিল,” বলো বীর, চিরউন্নত শির/ শির নেহারি আমারি নতশির ঐ শিখর হিমাদ্রীর! ” বাঙালির আত্ম-উন্মোচনের ও আত্ম-উদবোধনের সেই পথ বেয়ে আল মাহমুদ রচনা করেন ” সোনালি কাবিন” যেখানে গ্রামের কৃষাণ- কৃষাণীরা সাহসী, বলিষ্ঠবাহু এবং অত্যাচারীর বিরুদ্ধে সংগ্রামে অকুতোভয়—

“খোরাকির শত্রু আনে যত হিংস্র লোভের আঘাত,
আমরা ফিরাবো সেই খাদ্যলোভী রাহুর তরাস।
নদীর চরের প্রতি জলে-খাওয়া ডাঙার কিষাণ
যেমন প্রতিষ্ঠা করে বাজখাই অধিকার তার,
তোমার মস্তকে তেমনি তুলে আছি ন্যায়ের নিশান,
দয়া ও দাবিতে দৃঢ় দীপ্তবর্ণ পতাকা আমার।”
(সোনালি কাবিন / আল মাহমুদ)

আমরা যদি এস এম সুলতানের আঁকা ছবিগুলো গভীরভাবে ও সূক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে লক্ষ করি তবে দেখতে পাবো–সোনালি কাবনে বর্ণিত ” বাজখাই অধিকার ” প্রতিষ্ঠার জন্য, সেই ” খোরাকির শত্রু”দের প্রতিহত ও পরাজিত করার জন্য যেই “বলিষ্ঠবাহু কিষাণ-কিষাণী” প্রয়োজন, তাদেরই ছবি এঁকে গেছেন বাংলাদেশের গৌরব, বাঙালির গৌরব বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান। আল মাহমুদের মতো তিনিও কৃষিপ্রধান গ্রামবাংলার কৃষিজীবী সাধারণ মানুষের বিজয় ও সুদিনের স্বপ্ন দেখেছেন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল কারিগর কৃষকগণ। তাদের বাহুর উপর ভর করে টিকে থাকা বাংলাদেশের। নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে তারা টিকে থাকে। তাদেরকে বাঁশের কেল্লার তিতুমীর হতে হয়, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ” পদ্মানদীর মাঝি” হতে হয়। তারা দুর্বল হলে চলবে না। আর শোষণ নিপীড়ন বঞ্চনা এর বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে বলশালী হওয়ার বিকল্প নেই। সেইজন্য তাঁর আঁকা গ্রামীণ নরনারী অমন মাংসল ও বলিষ্ঠপেশী। তাঁর পুরুষরা এক একজন বলশালী বীর। এবং তাঁর নারীরা ইউরোপের বলনৃত্যের ক্ষীণতনু পুতুল নয়, নয় বলিষ্ঠবাহু পুরুষ সালমান খানদের পাশে কারিনা কাপুরের মতো জিরো ফিগারের দুর্বল মানবী। তাঁর নারীরা পুঁথির বীরনারী সোনাভানের মতো। তাঁর নারীরা শক্ত পেশীবহুল। তাঁর নারীরা উন্নত ও বৃহৎ স্তনা যারা বীর সন্তান জন্মদানে এবং সন্তানদের পেটভরে বুকের দুধদানে সক্ষম। বিষয়টি না বুঝলে তাঁর আঁকা এসব ছবিকে উদ্ভট ও কিম্ভুতকিমাকার মনে হবে, মনে হবে আবোলতাবোল। কিন্তু এস এম সুলতান একজন ” বিদ্রোহী চিত্রশিল্পী “, ঠিক কাজী নজরুল ইসলাম যেমন ” বিদ্রোহী কবি”। প্রাসঙ্গিকভাবে বলি, আগ্রহীরা প্রখ্যাত কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই রচিত ” সুলতান ” উপন্যাসটি পড়ে দেখতে পারেন। বাংলার কৃষকরা আগে নীলকর দস্যু, জমিদার ও সামন্তদের দ্বারা শোষিত, নিগৃহীত ও অত্যাচারিত ছিল। আজও তারা অনেক দুর্বল, অর্থনৈতিকভাবে পরাজিত। বেণিয়া-বিশ্বায়ন প্রযোজিত “মুনাফাখোর প্রকট পুঁজিবাদ” আজ অনেক বেশি দাঁতাল ও আগ্রাসী। এই সময় এস এস সুলতানের স্বপ্ন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাঁর চিত্রশিল্পের পাঠগ্রহণ আরও বেশি তাৎপর্য বহন করছে। কৃষিপ্রধান বিশ্বসভ্যতা রচিত হয়েছিল, টিকে ছিল, নতুন সভ্যতারপথ দেখিয়েছিল যাদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে তারা ছিলেন কৃষিকাজে এবং গ্রামীণ মৃৎশিল্পে নিয়োজিত নরনারী। তাদের বাহুর ওপর ভর করে দাঁড়িয়েছিল সেদিনের সভ্যতা। কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় আমরা এমন দৃশ্যের শব্দচিত্র দেখেছি। সভ্যতাকে মজবুত করা ক্ষেত্রে এবং ‘সভ্যতার বিনির্মাণে আজও কৃষক-মজুরদের ভূমিকা শেষ হারিয়ে যায়নি। আজও বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে কিষাণ-কিষাণীর বাহুর ওপর। এসএম সুলতানের নিজের কথাতেও বিষয়টি লক্ষ যায়:

“আমি আমার বিশ্বাসের কথা বলছি৷ আমার সকল চিন্তা, সবটুকু মেধা, সবটুকু শ্রম দিয়ে যা কিছু নির্মাণ করি তা কেবল মানুষের জন্য, জীবনের জন্য, সুন্দর থেকে সুন্দরতম অবস্থায় এগিয়ে যাবার জন্য৷ আমার ছবির মানুষেরা, এরা তো মাটির মানুষ, মাটির সঙ্গে স্ট্রাগল করেই এরা বেঁচে থাকে৷ এদের শরীর যদি শুকনো থাকে, মনটা রোগা হয়, তাহলে এই যে কোটি কোটি টন মানুষের জীবনের প্রয়োজনীয় বস্তুসকল আসে কোত্থেকে? ওদের হাতেই তো এসবের জন্ম৷ শুকনো, শক্তিহীন শরীর হলে মাটির নিচে লাঙলটাই দাব্বে না এক ইঞ্চি৷ আসলে, মূল ব্যাপারটা হচ্ছে এনার্জি, সেটাই তো দরকার৷ ঐ যে কৃষক, ওদের শরীরের অ্যানাটমি আর আমাদের ফিগারের অ্যানাটমি, দুটো দুই রকম৷ ওদের মাসল যদি অতো শক্তিশালী না হয় তাহলে দেশটা দাঁড়িয়ে আছে কার উপর? ওই পেশীর ওপরেই তো আজকের টোটাল সভ্যতা৷”

আমি ব্যক্তিগতভাবে বলিষ্ঠ নরনরারীর অস্তিত্ব ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। আমার কাছেমনে হয়, বিশ্বসুন্দরী, মিস ইন্ডিয়া, মিস বাংলাদেশ প্রভৃতি হচ্ছে নারীকে দুর্বল এবং ভোগ্যপণ্য হিসেবে রাখার চতুর নতুন কৌশল। বলিষ্ঠবাহু সালমান কানদের সাথে জিরো ফিগার তালপাতার সেপাই কারিনা কাপুররা পেরে উঠবেন না। সমকক্ষ মানে জ্ঞানবিজ্ঞানে সমকক্ষ এবং শারীরিক বলিষ্ঠতাতেও সমকক্ষ। ‘বীরভোগ্যা’ বসুন্ধরা’ আর কতদনি? আর শুধু পুরুষরাই একচেটিয়া কেন ‘বীর’ হয়ে থাকবে? পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে নারীদেরও এগিয়ে আসতে হবে বলিষ্ঠবাহু হয়ে– বীরচরণে।

‘ব্যায়ামাগার থেকে উঠে এসো
খেলার মাঠ হতে উঠে এসো
ফসলের ক্ষেত থেকে উঠে এসো
প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে এসো
ইতিহাসের স্কুল থেকে পাঠ নিয়ে
বেরিয়ে এসো
দৃপ্তনয়না বলিষ্ঠবাহু সোনাভান
তোমার চোখে চেয়ে-
তোমার বাহু দেখে
গুহায় ফিরে যাক-
বিজ্ঞাপনে হেসে ওঠা
অভিচারতন্ত্রের রঙিন সেকুয়েল।’
(সোনাভান )

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg

আমিনুল ইসলাম

জন্ম : ১৯৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার টিকলীচর গ্রামে।

তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্সসহ এমএ এবং নর্দান ইউনিভার্সিটি থেকে গভর্নেন্স স্টাডিজ বিষয়ে এমএস ডিগ্রী অর্জন করেন। চাকরিজীবনে তিনি ভারত, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ

কবিতা
তন্ত্র থেকে দূরে : ২০০২ । মহানন্দা এক সোনালি নদীর নাম : ২০০৪ । শেষ হেমন্তের জোছনা : ২০০৮ । কুয়াশার বর্ণমালা : ২০০৯ । পথ বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি : ২০১০ । স্বপ্নের হালখাতা : ২০১১ । প্রেমসমগ্র : ২০১১ । জলচিঠি নীলস্বপ্নের দুয়ার : ২০১২ । শরতের ট্রেন শ্রাবণের লাগেজ : ২০১৩ । কবিতাসমগ্র : ২০১৩ । জোছনার রাত বেদনার বেহালা : ২০১৪ । তোমার ভালোবাসা আমার সেভিংস অ্যাকউন্ট : ২০১৫ । প্রণয়ী নদীর কাছে : ২০১৬ । ভালোবাসার ভূগোলে : ২০১৭ । অভিবাসী ভালোবাসা : ২০১৮ । বাছাই কবিতা : ২০১৯ ।

ছড়া
১.দাদুর বাড়ি : ২০০৮
২. ফাগুন এলো শহরে : ২০১২
৩. রেলের গাড়ি লিচুর দেশ : ২০১৫

প্রবন্ধ
বিশ্বায়ন বাংলা কবিতা ও অন্যান্য প্রবন্ধ : ২০১০

সম্মাননা/পুরস্কার

রাজশাহী সাহিত্য পরিষদ সাংগঠনিক সম্মাননা : ২০০৪
বগুড়া লেখক চক্র স্বীকৃতি পুরস্কার : ২০১০
শিশুকবি রকি সাহিত্য পুরস্কার : ২০১১
নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ সম্মাননা : ২০১৩
এবং মানুষ সাহিত্য পুরস্কার : ২০১৭
দাগ সাহিত্য পুরস্কার : ২০১৮

লেখকের আরও লেখা :

কাজী নজরুল ইসলাম– কবি ও মানুষ : আমিনুল ইসলাম

About S M Tuhin

দেখে আসুন

আনন্দ পাঠে প্রেম প্রকৃতি : দিলরুবার কবিতা- শুভ্র আহমেদ

আনন্দ পাঠে প্রেম প্রকৃতি : দিলরুবার কবিতা শুভ্র আহমেদ এক কবি দিলরুবার জন্ম ১৯৭১ সালের …

4 কমেন্টস

  1. মোহাম্মদ মাসুদ আহমদ

    ইচ্ছে

    আমার কেনো ইচ্ছে করে
    ভালবাসতে তারে
    যে আমারে নিন্দে করে
    ঠেলে দেয় দূরে।

    আমার কেনো ইচ্ছে করে
    থাকতে চাই তার কাছে
    যে আমারে কষ্ট দিতে
    ঘুরে পিছে পিছে।

    আমার কেনো ইচ্ছে করে
    গাইতে তার গান
    যে আমারে দিবানিশি
    করে যায় অপমান।

    আমার কেনো ইচ্ছে করে
    দিতে তারে আলো
    যে আমারে মন্দ বলে
    চায় না কোন ভালো।

    আমার কেনো ইচ্ছে করে
    চাই শুধু তার সুখ
    যে আমারে কষ্ট দিয়ে
    বাড়িয়ে দেয় দুখ।

    মাসুদ
    ১১/৮/২০১৭।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *