নতুন পোস্ট

কবিতা : শুভ্র আহমেদ

শুভ্র আহমেদ

অপ্রেম প্রেমের পলেস্তারা

তার অপ্রেমের মানচিত্রে আমি নতুন করে
পলেস্তারা বসিয়েছি, সে নিশ্চয়ই
হৃৎপিণ্ডের সব রঙ মিশিয়ে এবার আঁকবে
সেইসমস্ত রঙিন ডানার মৌ-লোভী প্রজাপতি —
আহা, সবকিছু ঠিক আছে এই যেমন
মেঘলা সকাল, জন নাতিবিরল রাস্তাঘাট
নদীর নম্রস্বভাব পাঁড়, মৌসুমশীর্ষ জেলে
আর জেলেনির মিথোজীবী মিথুনরাশি
তার ঠোঁটবাঁকা হাসি অথবা কথারতুবড়ি

তার অপ্রেমের মানচিত্রে আমি নতুন করে
পলেস্তারা বসিয়েছি, ঝুমকোজবাগুলো দিনশেষে
আত্মহননে ব্যয় করেছে তার বেশিরভাগ সময়
পুজোর অহংকারী ডালার জন্য খানিকটা শোক
আজ সকালেই শিখলাম— রাগ আর ঝড় দুটোই
নাকি এক, রাগ আর ঝড় একসময় থেমে যায়
কেবল রেখে যায় পরিমাপ উপযোগী ক্ষতির
কারুকর্মময় অবসরের চিহ্ন, পলেস্তারাও পরাজিত হয়,

তার অপ্রেমের মানচিত্রে আমি নতুন করে
পলেস্তারা বসিয়েছি — অপ্রেম প্রেমের পলেস্তারা ।

স্পর্শক

পুরোটাই দুপুর। চিলেকোঠার সময় কখন যে
আমার থেকে আমাদের হয়ে যায় তার ছোট্টছোট্ট
হিসেব রাখার চেষ্টায় চায়ের দোকানে তুমুল
বিতর্কসভা চলে।

পুরোটাই দুপুর। ঢেউগোনা চাকুরীর ইস্তফা টেনে
এগিয়ে চলার বাজেটীয় জটগুলো জোটগঠনে
কিভাবে কিভাবে যেনো আমার থেকে আমাদের
হয় ; সে নিয়েও চায়ের দোকানে তুমুলযুদ্ধ

যুদ্ধের শুরুতে প্রতিটি পাতায় যাদুময়
আঙুলের স্পর্শ, পরিধি ছুঁয়ে স্পর্শক এঁকে যায়
স্পর্শকগুলো শূন্যতম ভরে বেঁধে রাখে
আমাদের একান্ত সব মানবিক কথোপকথন
তা নিয়েও চায়ের দোকানে শীতল ঠাট্টা চলে।

অসময়

অনুমোদনের অপেক্ষায় টাইম আউট
তবে কী অনুমোদন ছাড়াই এবার অধিকার
করার দুঃসাহসে শনির বলয় ছোঁব —
শনিতে শনি
অপেক্ষায় শনি
উপেক্ষায় শনি
তবে কী, তবে কী?
বলার দুঃসাহসে আবারও শনির বলয় ছোঁব
শনির বলয় ছোঁব আবারও বলার দুঃসাহসে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় টাইম আউট।

নৈঃশব্দের ছিদ্রপথে

তুমি কাছে এলে তারপর আমি আমার পোষাক
হারালাম। ধ্যানমগ্ন হলাম আমরা আর
আমাদের প্রতি অঙ্গ ও যেনো তাই
আমরা কুজ্ঞলতার মতো জড়িয়ে রইলাম
আমাদের ওষ্ঠাগত প্রতিটি ধ্বনি তখন
শ্লোকের মতো পবিত্র ;

প্রতিটি শ্লোক নতুন আর পবিত্র
তুমি যেমন প্রতিরাতে নরম ফুলের মতো
ছেড়া ছেড়া নৈঃশব্দের ছিদ্রপথে
আলো অন্ধকারের সমান একবুক প্রশান্তি ;

তুমি কাছে এলে তারপর আমি আমার পোষাক —

প্রাচীন বৃক্ষের তলে

প্রাচীন বৃক্ষের তলে হেঁটে বেড়িয়েছি সারারাত
ঝরে পড়া পাতাগুলোয় কার কার নাম
লেখা তার তন্ন সন্ধান মূলত ছিলো আমার
লক্ষ, আমি প্রথমেই যে নাম খুঁজেছি
সেটি আমার নিজের। তারপর আমার বর্তমান
প্রেমিকার নাম কোনো পাতায় লেখা আছে
কিনা তার অনুসন্ধানে কাটিয়েছি যতক্ষণ না
আমার চোখ পানিতে ভরে গেছে অশেষ ক্লান্তির
কারণে ; তারপর আমার বন্ধু আর যারা বন্ধু নয়
এমন সকলের নাম পড়ার চেষ্টায় বার বার
পিছনে ফিরে তাকিয়েছি, অথচ আমি কোনো
নিষিদ্ধ গাছের কাছে গিয়েছিলাম এমনটা একেবারেই
না, যে পাতাগুলো ঘুমিয়ে ছিলো তাদের জাগাতে
হবে এমন কোনো গুরুদায়িত্ব নিয়ে তাদের গান
শোনাতে গিয়েছিলাম, এমনকি অই বৃক্ষের
কাছে প্রথম প্রাণের স্পন্দন বন্ধকি কিনা
সেরকম কিছু জানার প্রচেষ্টাও একদম ছিল না ;

এসবের পরেও আমি কেমন যেনো বেখেয়াল
প্রাচীন বৃক্ষের তলে হেঁটে বেড়িয়েছি সারারাত।

নীতিকথা

ধীমান আর সুন্দরী সমান সমান হলে
তাকে কখনো ছুঁতে নেই,
তাকে ছুঁতে নেই কেনোনা সে তখন
শব্দে বোনা বহুজনের গোয়ের্নিকা ;
তাকে কখনো ছুঁতে নেই কেনোনা
কিউবিক ফর্মের প্রতিটি কোনার দুরত্ব
সর্বদাই উপহাস্য পিপিলিকার মতো
পিলপিল করে তখন এগিয়ে চলে ;

ধীমান আর সুন্দরী সমান সমান না
হওয়াই উচিত।

বর্ষপঞ্জি

বর্ষপঞ্জিগুলো কেমন যেনো পূর্বাপর
দুঃসময়ের বংশবৃদ্ধি করে ; কেউ আমাদের কী
সিগন্যাল জানিয়েছিল, এই যেমন এক দুই —- দশ
এটা এখন সত্যি বলা মুশকিল কেনোনা তখন
আমরা আমাদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম এই

যেমন নিত্যই থাকি, কাকগুলো হিংসায়
হেসে উঠেছিলো কারন তখন বসন্তঋতু
তার আগমনী গান কেবল ছেড়েছে মাত্র ;

পঞ্চাশে মহড়া চলে না এসত্য
কে বোঝাবে তাদের, তাঁহাদের
তারা, তাঁহারা বরঞ্চ তারা তারা করে
শেষপর্যন্ত তারাপদ নাপিতে পৌঁছোতে পারবে
হয় পৌঁছুক না হলে না, গন্তব্য যদি চির অধরাই থাকে
তাতে আমার কী?

বর্ষপঞ্জিগুলো কেমন যেনো পূর্বাপর —

স্বপ্নে

মনে পড়ছে না কী স্বপ্ন দেখেছিলাম
আমার স্বপ্নে ময়ূর নাকি মনিপুরী কে যেনো
অনেকক্ষণ তার কথ্যকনাচের নতুন নতুন মুদ্রায়
ভুলিয়ে রেখেছিল সবকিছু ; সবকিছু মানে
সব দুঃখময় কষ্ট, বেতাল হর্ষ, বিদঘুটে সব প্রশ্ন
আর তার কঠিন কঠিন সব উত্তর
তারপর কী হতে কী হলো
বিষণ্ণবদন মুখ তুলে দেখে নিলো আকাশ একেবারেই
অন্ধকার।এ অন্ধকার বৃষ্টির নয়, তবে কী ঝড়োপুঞ্জ
তাণ্ডবলীলা, সত্যি বলছি কিছুই মনে করতে
পারছি নে, একমাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম এটুকু ছাড়া।

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg

শুভ্র আহমেদ

জন্ম : ০৩ অক্টোবর ১৯৬৬

প্রকাশিত বই

কার্নিশে শাল্মলী তরু : কবিতা : ১৯৯৯, আড্ডা
বিচিত পাঠ : প্রবন্ধ : ২০১৪, ম্যানগ্রোভ
বলা যাবে ভালোবেসেছি : কবিতা : ২০১৫, ম্যানগ্রোভ
দুই ফর্মায় প্রেম ও অন্যান্য কবিতা : কবিতা : ২০১৬, ম্যানগ্রোভ
রবীন্দ্রনাথ যেভাবে বাঁশি বাজিয়েছেন এবং অন্যান্য : প্রবন্ধ : ২০১৯, ম্যানগ্রোভ

পুরস্কার / সম্মাননা
কবিতাকুঞ্জ সম্ম্ননা (১৪০৮ ব)
বিজয় সাহিত্য পুরস্কার (২০০৯)
কবি শামসুর রাহমান পদক (২০১০)
দৈনিক কালের কণ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা (২০১২)
কবি সিকানদার আবু জাফর স্বর্পদক (২০১৪)

লেখকের আরও লেখা :

সাবদার সিদ্দিকি : একজন ক্রুশকাঠহীন যিশু – শুভ্র আহমেদ

কবিতা । অভিসার পর্ব : শুভ্র আহমেদ

কবিতা : শিরোনাম নেই : শুভ্র আহমেদ

রবীন্দ্রনাথ আছেন, রবীন্দ্রনাথ কী সত্যি আছেন : শুভ্র আহমেদ

আনন্দ পাঠে প্রেম প্রকৃতি : দিলরুবার কবিতা- শুভ্র আহমেদ

About S M Tuhin

দেখে আসুন

কবিতা : অর্ণব আশিক

অর্ণব আশিক সেদিন তোমায় বলিনি সেদিন তোমায় বলিনিমৌনতাও সৃষ্টি করে এক অন্য রকম ভাষাতুমি ছিলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *