বাদামের ব্রেসিয়ার ও পেন্সিল স্কেচের কবিতা : জ্যোতি পোদ্দার

বাদামের ব্রেসিয়ার ও পেন্সিল স্কেচের কবিতা

জ্যোতি পোদ্দার

ভাঁজে ভাঁজে কড়া সেন্ট ভাঁজে ভাঁজে বাঁকাপথ
জানি বটে—হাঁটিনি এখনো।
হাঁটার প্রাবল্য নিয়ে
প্রতিদিন খুলি আলটপকা শাড়ির ভাঁজ।

ভাঁজেই অচেনা বাঁকা পথ ইশারা আর সংকেত
ভাঁজ খুললেই গড়ের প্রশস্ত মাঠ পাশাপাশি বহুজন

একা ও একাকী আমি বাদামের খোসা ভেঙে
ফু দিয়ে উড়াই কালচে খয়েরি
বাদামের ব্রেসিয়ার
আর কুট করে দাঁতে ভাঙি জোড়া বাদাম
আর বাদামি রঙের বিকাল ।।

একবার জঙ্গল এঁকেছিলাম খুব গভীর জঙ্গল।
এঁকেছিলাম –ওয়াটার কালারে
গা ছম ছম করা কালচে জঙ্গল।

কাঁটা মেহেদীর বেড়া ছিল না
পথ ছিল না।
পথিক ছিল না।

চিহ্নহীন পথে পাখির আঁচড় ও উচ্ছাস ছিল।
ছিল পালক ও পাতার ওড়াওড়ি
আর ছিল পশুর পাশে থাকা পশুর কোলাকুলি।

জঙ্গলের স্বাধীনতা স্বীকার করিনি বলে
জঙ্গলে ঢুকার কোন
করিডোর তৈরি করতে পারিনি।

তিতির বিদ্রোহ করেছিল।
রসুনের কোয়ার মতো সাদা লাজুক খোরগোশ
বিদ্রোহ করেছিল।
নুয়ে পড়া বৃক্ষও দাঁড়িয়েছিল রুখে।

একগুচ্ছ না
ওয়াটার কালারে ভ্যানিশ
যেমন করতে পারিনি
তেমনি বজ্জাত ইরেজারও হয়েছিল বিভিষণ ।।

বাগান বেশ তরতর করে বাড়ছে। বাড়ন্ত শরীরে সতেজ মেধাবী ফুল থেকে থেকে বাতাসে কখনো দুলছে কখনো পাতার কানে যে কী বলছে তা ঠিক ঠাহর করতে পারছি না।থাক তবে থাক গোপন কথা বাগানেই।

পেশিবহুল শক্ত ডালের গোপন রহস্য জানে শুধু আমার টু বি ফোর পেন্সিল।
ইরেজার সংবিধানে প্রতিশ্রতবদ্ধ। শপথ ভাঙে না।কোথায় কোন রেখা গুম করে বাগানে পুঁতে রেখেছি সে জানে –এটি আমি যে জানি সে তা জানে না।

কত জনের কত শখ থাকে
কারো ছাদকৃষি
কারো উঠান বাগান
কারো বা দুই বাই আট ফিট বারান্দার টবে সাজানো গোলাপ টগরের বাগান।

আমার বাগান পেন্সিল স্কেচের বাগান।
ফুলেরও।
ফলেরও।
একটা ছোট ঝোড়াও আছে। জল আঁকতে পারলেও গতি আঁকতে পারিনাি।
ঝাঁকড়া চুলের মতো ছড়ানো মেলানো গাছের মাথা এঁকছি।
আর ওদিকে লতা এঁকেছি।
তোমার লম্বা বিনুনির মতো পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে
রেলিঙের ফ্লোর পর্যন্ত।

পাখি এঁকেছি। পাখির খড়খুটের বাসাও একেঁছি।
তবে কিচির মিচির আঁকতে পারিনি।

রুটিন করে পেন্সিল স্বেচ বাগানে জল সার দিলেও কখনো কস্মিন কালেও
রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করি না। যে গাছ পেন্সিলে বাড় বাড়ন্ত
সেখানে স্প্রে করে পয়সা নষ্ট করার বেহিসাবি মানুষ আমি না ।।

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg

জ্যোতি পোদ্দার

প্রকাশিত কবিতার বই
(a+b)2 উঠোনে মৃত প্রদীপ । কাঠের শরীর : ১৯৯৭
সীতা সংহিতা । কাঠের শরীর : ১৯৯৯
রিমিক্স মৌয়ালের শব্দঠোঁট । কাঠের শরীর : ২০০২
ইচ্ছে ডানার গেরুয়া বসন । সীমান্ত : ২০১১
করাতি আমাকে খুঁজছে । উলুখড় : ২০১৭
দুই পৃথিবীর গ্যালারি । বইকণ্ঠ : ২০১৯

লেখকের আরও লেখা :

কলাপাড়া নতুন বাজার : জ্যোতি পোদ্দার

About S M Tuhin

দেখে আসুন

কবিতা : অর্ণব আশিক

অর্ণব আশিক সেদিন তোমায় বলিনি সেদিন তোমায় বলিনিমৌনতাও সৃষ্টি করে এক অন্য রকম ভাষাতুমি ছিলে …

2 কমেন্টস

  1. নূরুজ্জামান খান

    দারুণ
    ভালো লাগলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *