রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটকের অনুবাদক ক্ষিতীশচন্দ্র সেন : সুরঞ্জন রায়

রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটকের অনুবাদক ক্ষিতীশচন্দ্র সেন

সুরঞ্জন রায়

কালিয়া নড়াইল জেলার একটি উপজেলার নাম। একদা বৈদ্যসম্প্রদায় অধ্যুষিত এই জনপদের সমৃদ্ধি ছিলো শিক্ষা ও উচ্চ পদে আসীন রাজকর্মচারিদের জন্যে। ছোট্ট এই জনপদে ছিলেন তিন জন আই.সি.এস., দুই জন ব্যারিস্টার, কলকাতা, বোম্বে ও ভূপাল হাইকের্টের বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। অনেক সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, কালেক্টর, সাব জজ, ইঞ্জিনিয়ার প্রমুখ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ অধ্যক্ষ,অধ্যাপক, শিক্ষক, উকিলদের মধ্যে পাঁচ জন রায়বাহাদুর, ডাক্তার, সিভিল সার্জন ইত্যাদি নিয়ে প্রায় সাড়ে পনেরো আনা লোক ছিলেন চাকরিজীবী। এ গ্রামে জন্মেছেন উদয়শঙ্কর (১৯০০-১৯৭৭) ও রবিশঙ্করের (১৯২০-২০১২) পিতা ব্যারিস্টার শ্যামশঙ্কর হর চৌধুরী (১৮৭৬-১৯৩৫), যিনি League of Nations-এর আইনজীবী ছিলেন না শুধু, ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক পদ অলঙ্কৃত করেন। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তিনি জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরাসি ভাষায় The Nature of the Political Relations between the Indian States and the British Imperial Government : শিরোনামে সন্দর্ভ লিখে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া, লেখেন অনেকগুলো বই। অধ্যাপনার জন্যে আমন্ত্রিত হন কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এ মানুষটিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) বলতেন ‘পন্ডিত। এ জনপদের শ্যামশঙ্কর, উদয়শঙ্কর ও রবিশঙ্কর ছাড়া রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন ক্ষিতীশচন্দ্র সেন (জ. ১৮৮৮)। তিনি ছিলেন কালিয়ার প্রথম আই.সি.এস.। রাজা নাটকের অনুবাদের সূত্রে তিনি হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথের কাছের মানুষ ।

তাঁর জন্ম কালিয়া উপজেলার বড়কালিয়া গ্রামে। পিতা দুর্গাদাস সেন। দুর্গাদাস সেনের পূর্বপুরুষ পয়োগ্রাম থেকে সেনহাটি গ্রামে এবং সেনহাটি থেকে বিবাহ সূত্রে বড়কালিয়া গ্রামে উঠে আসেন।(১) দুর্গাদাসের সাত ছেলের মধ্যে বড় ছেলে জ্যোতিষচন্দ্র ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম হন।(২) পরবর্তীকালে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হন। অন্য ভাইদের মধ্যে হরিশ্চন্দ্র ছিলেন ডাক্তার, গিরিশচন্দ্র স্বায়ত্তশাসন বিভাগের সেক্রেটারি, কনিষ্ঠ পূর্ণচন্দ্র ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। এ রকম একটি পরিবারের সন্তান ক্ষিতীশচন্দ্র সেন রবীন্দ্রনাথের রাজা নাটকের অনুবাদক।
রবীন্দ্রনাথ যেবার নোবেল পুরস্কার পান, সেবারই ক্ষিতীশচন্দ্র আই.সি.এস. হন এবং সেই বছরে অর্থাৎ ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর তিনি বোম্বাই সরকারের অধীনে চাকরিতে যোগদান করেন। বিলেত থেকে তিনি ভারতে আসেন ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৫ নভেম্বর।(৩) চাকরির প্রথমদিকে তিনি ছিলেন বোম্বে হাইকোর্টের অ্যাপিলেটেড বিভাগের রেজিস্ট্রার ও আইন কমিটির সেক্রেটারি।(৪) অতঃপর বিচারপতি নির্বাচিত হন।(৫) বোম্বাই সরকারের অধীনে তিনি এ কাজে সব মিলিয়ে বহাল ছিলেন ১৭ বছর ৮ মাস ১১ দিন।

দুই.

রাজা রবীন্দ্রনাথের একটি অনন্য সৃষ্টি। বিভিন্ন জনের কাছে লেখা চিঠি থেকে জানা যায় রবীন্দ্রনাথ কখনও অধ্যাপকদের (ইন্দুলেখা চৌধুরীকে লেখা চিঠি ১২ কার্তিক১৩১৭), কখনও শান্তিনিকেতনের ছাত্রদের অনুরোধে (চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠি ১৭ কার্তিক ১১৩১৭) নাটকটি রচনা করেন। নাটকটির কাহিনি তিনি সচেতনভাবে রাজেন্দ্রলাল মিত্রের (১৮২২-১৮৯৯) The Sanskrit Buddhist Story of Nepal গ্রন্থের Story of Kusa (pp.142-45) The Sanskrit Buddhist Storz of Nepal গ্রন্থের Storz of Kusa (pp.142-45) থেকে গ্রহণ করলেও (৬). নাটকটির আখ্যানভাগের সঙ্গে সংস্কৃতকাব্য কুশাবদান-এর আছে বিস্ময়কর মিল। এমন কি কুশাবদানের সুদর্শনার উক্তি ও রাজা নাটকের সুদর্শনার সংলাপের মধ্যে আছে অসম্ভব সাদৃশ্য। (৭). এ রকম মিল সত্ত্বেও রাজা রবীন্দ্রনাথের একটি মৌলিক সৃষ্টি।

রাজা প্রকাশিত হয় ১৩১৭ সালের পৌষ মাসে। আর The King of the Dark Chamber শিরোনামের অনুবাদ প্রকাশিত হয় ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে। প্রকাশের সময় নাটকটির শিরোনাম, লেখক ও অনুবাদক হিসেবে লেখা হয় : The King of the Dark Chamber by Rabindranath Tagore, Translated into English by the Author (pp.177-237)।(৮) অনুবাদক হিসেবে রবীন্দ্রনাথের নাম থাকলেও ক্ষিতীশচন্দ্র সেনের নাম ছিলো না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ রাজা কেন মালিনী ও ডাকঘর-এর অনুবাদ নিজে করেন নি।(৯) রাজা -র অনুবাদ সম্পর্কে একটি চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ (১৬ অক্টোবর ১৯১২) লেখেন যে, কেমব্রিজের একজন ছাত্র রাজা অনুবাদ করছেন।(১০) ছাত্রটির নাম অনুল্লেখিত। তবে অনুবাদ শেষ করে ক্ষিতীশচন্দ্র রবীন্দ্রনাথকে লেখেন:

আমি যথাসাধ্য রাজার Literal তর্জমা করতে চেয়েছিলুম। অথচ জানতুম যে, সাহিত্যে তর্জমা এ রকম Literal আকারে প্রকাশিত হলে খুব উপভোগের বস্তু হয় না। প্রথম অনুবাদের উদ্দেশ্যটা এই রকম ছিল যে, আসলের রসটা যতটা সম্ভব সমগ্র ও অপরিবর্তিত আকারে ইংরেজির মধ্যে এনে উপস্থিত করা। তারপরে, ইংরেজি ভাষা ও চিত্তের প্রকৃতি ও গতি অনুসারে সেটাকে পিটিয়ে-সিটিয়ে সাজিয়ে-গুছিয়ে একটা Organicসৌন্দর্যের মূর্ত্তি দেওয়া যেতে পারত। আমার সময় থাকলে আপনাকে পাঠাবার আগে হয়ত ঐ প্রথম খসড়াটাকে Base করে আর একটা খাতা তৈরি করতুম, কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল এ বিষয়ে যা কিছু করবার তা আপনার হাতেই হবে।(১১)

অনুবাদক হিসেবে MACMILLAN POCKET  TAGORE EDITION-এর ১৯৮০, এমনকি ১৯৮৩ ও ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের সংস্করণেও ক্ষিতীশচন্দ্রের নাম নেই। ফলে রাজা নাটকের অনুবাদের সূত্রে বাংলাদেশের কালিয়ার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে একটা যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো তা বরাবর অজ্ঞাতই রয়ে গেছে।

রবীন্দ্রনাথ ক্ষিতীশচন্দ্র সেনের অনূদিত The King of the Dark Chamber-এর পাণ্ডুলিপি সংশোধন করে The Drama (May 1914No.10) পত্রিকায় প্রকাশ করেন। সে রকম অনুমতিও ছিলো অনুবাদকের। অনুবাদক হিসেবে ক্ষিতীশচন্দ্রের নাম সেখানেও উল্লেখিত হয় নি। এর আগে ঘধঃরড়হ পত্রিকার সম্পাদক নাটকটি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ক্রোড়পত্রে ছাপতে চাইলে ম্যাকমিলান কম্পানির আপত্তির কারণে সম্ভব হয় নি।(১২)

ক্ষিতীশচন্দ্রের অনুবাদটি অভিনয়ের জন্যে রবীন্দ্রনাথ ডব্লিউ বি ইয়েটসকে দিয়েছিলেন।(১৩) অভিনীতও হয়েছিলো Nation-এ।(১৪) অভিনীত হওয়ার আগে রবীন্দ্রনাথ নাটকটি ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে সন্ধেয় ২৬ নং গিলকট স্ট্রিটে লেডি ফ্লাওয়ারের বাড়িতে পড়ে শোনান। পাঠ শুনে Evelyn Underhill (স্টুয়ার্ট মুর-এর স্ত্রী) রবীন্দ্রনাথকে লেখেন:

One thing specially struck me, even amongst all its beauties: I mean the episode of the King who went out to meet the great king on the battlefield, and fought like a brave man-hardly anyone I think has told that before, & too many of our teachers of ‘religion’ spend their time in saying the exact opposite.(১৫)

ক্ষিতীশচন্দ্রের অনুবাদ রবীন্দ্রনাথের শুধু ভালো লাগে নি, পাশ্চাত্যেও প্রশংসিত হয়েছিলো। নাটকের সংলাপের অনুবাদের কথা বাদ দিলেও, বারোটি গানের অনুবাদ ক্ষিতীশচন্দ্রকে বাঁচিয়ে রাখবে। রবীন্দ্রনাথ তাঁকে দিয়ে নন্দিনী-র অনুবাদও করাতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি জানা যায় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১১ অক্টোবর লেখা একটি চিঠি থেকে।(১৬) রবীন্দ্রনাথ তাঁকে যে স্নেহ করতেন তাও জানা যায় ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের অগস্ট মাসের একটি চিঠির মাধ্যমে। দিলীপকুমার রায়কে (১৮৯৭-১৯৮০) লেখা এ চিঠিতে ক্ষিতীশচন্দ্রের ওপর রাগ করতে নিষেধ করেন রবীন্দ্রনাথ।(১৭)

আমরা অনুমান করতে পারি, রাজা নাটকের অনুবাদের জন্যে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ক্ষিতীশচন্দ্র সেনের গড়ে উঠেছিলো অন্য রকম সম্পর্ক। এ সম্পর্ক কতখানি গভীর ও আন্তরিকতাপূর্ণ ছিলো সে বিষয়ে কিছুই জানা না গেলেও, ক্ষিতীশচন্দ্র যে ১৯১২ থেকে ১৯৩০ তা প্রায় দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্যদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিলেন তা ধরা আছে রবীন্দ্রনাথের লেখা একাধিক চিঠির মধ্যে। রবীন্দ্রনাথের অন্য কোনো গ্রন্থ ক্ষিতীশচন্দ্র অনুবাদ করেছিলেন কিনা তা জানা যায় না। তবে ঋষি অরবিন্দকে (১৮৭২-১৯৫০) নিয়ে লেখা ‘নমস্কার’ কবিতাটির সমিল অনুবাদ করেন ক্ষিতীশচন্দ্র। অনুবাদটি :

Rabindranath, O Aurobindo, bows to thee!
O friend, my country’s friend, O voice incarnate free,
Of Indian’s soul! No soft renown doth crown thy lot,
Nor pelf or careless comfort is for thee; thou’st sought
Nor petty bounty, petty dole; the beggar’s bowl
Thou ne’er hast held aloft.

এ ছাড়া, ক্ষিতীশচন্দ্র থিওডোসিয়া টমসনের সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৮৭৬-১৯৩৮) শ্রীকান্ত উপন্যাসের প্রথম খণ্ডের অনুবাদ করেন। অনুবাদটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়।

তিন.

রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি-র ওপর ডব্লিউ বি ইয়েটস যেভাবে কলম বুলিয়েছিলেন, ক্ষিতীশচন্দ্রের The King of the Dark Chamber-এর বেলায় রবীন্দ্রনাথ কতখানি পরিবর্তন পরিবর্ধন বা সংযোজন করেছিলেন তা জানা যায় নি। যদি ধরে নেই এটি সম্পূর্ণ ক্ষিতীশচন্দ্রের অবদান, তাহলে দেখতে পাবো তিনি এ নাটকের অনেক সংলাপ বর্জন করেছেন। কুড়িটি অঙ্ক মিলে এ নাটকের সংলাপ প্রায় ৮৪৫টি। অনূদিত হয়েছে ৬৮৮টি। বাকি ১৫৭টি সংলাপসহ অনূদিত হয় নি ২৬টি গানের মধ্যে ১৪টি গান। রবীন্দ্রনাথ মূল রাজা নাটকে যেভাবে অঙ্ক সাজিয়েছেন, ক্ষিতীশচন্দ্র অনুবাদের সময় সেখানে একটু ভিন্নতা এনেছেন। তিনি The King of the Dark Chamber শুরু করেছেন রাজার দ্বিতীয় অঙ্ক দিয়ে।

সেক্ষেত্রে প্রথম অঙ্ক হয়েছে দ্বিতীয় অঙ্ক। বাকি অঙ্কগুলো যথাযথ রাখা হয়েছে। রাজার দ্বিতীয় অঙ্কের সংলাপ সংখ্যা ১৩৫টি। অনূদিত হয়েছে ১২০টি। অপরপক্ষে, রাজার প্রথম অঙ্কের ৮৬টি সংলাপের মধ্যে অনুবাদে দ্বিতীয় অঙ্ক হিসেবে অনূদিত হয়েছে ৬৫টি। তৃতীয় অঙ্কে ঠাকুরদার সংলাপ ও ‘আজি কমল মুকুলদল খুলিল’ গানটি বাদ দিয়ে অনুবাদ শুরু হয়েছে। এ অঙ্কে ৯২টি সংলাপের মধ্যে অনূদিত হয়েছে ৬৫টি, আর ‘মোদের কিছু নাইরে নাই’ (We have nothing indeed we have nothing at all) গানটি অনূদিত হলেও, অনূদিত হয় নি ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে’ ও ‘বসন্তে কি কেবল ফোটা ফুলের মেলা’ গান দু’টি।

চতুর্থ অঙ্কে সুদর্শনা ও রোহিনীর দু’টি সংলাপ বাদ দিয়ে অনুবাদ শুরু হলেও, ৪৩টি সংলাপের মধ্যে অনূদিত হয়েছে ৩৮টি। এ অঙ্কে :
বিরহ মধুর হল আজি মধুরাতে।
গভীর রাগিনী উঠে বাজি বেদনাতে।
ভরি দিয়া পূর্ণিমা নিশা
অধীর অদর্শনতৃষা
কী করুণ মরীচিকা আনে
আঁখি পাতে।
ক্ষিতীশচন্দ্র কৃত গানটির অনুবাদ :

My sorrow is sweet to me in this spring
night.
My pain smites at the chords of my love
and softly sings
Visions take birth from yearning eyes
and flit in the moonlit sky

রাজার পঞ্চম অঙ্কের ৫৮টির মধ্যে ২০টি সংলাপ আর বাউলদের গান ‘যা ছিল কালো ধলো’, ঠাকুরদার গান ‘আহা তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা’, ‘আমার সকল নিয়ে বসে আছি’, ‘আমার ঘুর লেগেছে- তাধিন তাধিন’, সুরঙ্গমার ‘পুষ্প ফুটে কোন্ কুঞ্জবনে’ গানগুলোর মধ্যে প্রথম দু’টি অনূদিত হয়েছে। ‘আহা তোমার সঙ্গে প্রাণের খেলা’ গানটির অনুবাদ :

With you is my game, love, my love!
My heart is mad, it will never own
defeat,
Do you think you will escape stainless
yourself reddening me with red
powder?
Could I not colour your robe with the
red pollens of the blossom of my
heart?

ষষ্ঠ অঙ্কের ২৮টি, সপ্তম অঙ্কের ২১টি ও অষ্টম অঙ্কের ৫টি সংলাপ অনুবাদে রক্ষিত হয়েছে। তবে অষ্টম অঙ্কের ‘ভয়েরে মোর আঘাত করো’ গানটি ছাড়া রাজার ‘আমি রূপে তোমায় ভোলাব না’, ও সুরঙ্গমার ‘আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী’ গান দু’টি অনূদিত হয় নি।

নবম অঙ্কের ১১টি ও দশম অঙ্কের ৩১টি সংলাপ অনূদিত হয়েছে শুধু সুরঙ্গমার ‘আমি কেবল তোমার দাসী’ গানটি ছাড়া। একাদশ অঙ্কের ৪৪টির মধ্যে ২৫টি, কিন্তু দ্বাদশ অঙ্কের ২৭টিই অনূদিত হয়েছে। ত্রয়োদশ অঙ্কে ২৫টির মধ্যে ৮টি অনূদিত হয়েছে। অঙ্কটি বন্দী কান্যকুব্জরাজ, অন্যান্য রাজগণ ও সুবর্ণ-র উপস্থিতিতে শুরু হলেও, অনুবাদে “‌ ‌KING OF KANCHI and SUVARNA”-র মধ্যে সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে কলিঙ্গ, বিদর্ভ, কোশল ও কান্যকুেব্জর রাজার কোনো সংলাপ তো অনূদিত হয়ই নি; পরন্তু ঘটনা অনুযায়ী সুবর্ণর ২টি ও কাঞ্চীর ১টি সংলাপ অনুবাদক রচনা করে দিয়েছেন। চতুর্দশ অঙ্কের ১৮টি সংলাপ অনূদিত হলেও, সুদর্শনার ‘এ অন্ধকার ডুবাও তোমার অতল অন্ধকারে’ গানটি অনূদিত হয় নি। পঞ্চদশ অঙ্কের ৬৫টির মধ্যে ৬০টি, ষোড়শ অঙ্কের ৩১টির মধ্যে ২৬টি, সপ্তদশ অঙ্কের ২৩টির মধ্যে ২৩টি এবং অষ্টাদশ অঙ্কের ১৫টির মধ্যে ১১টি সংলাপের অনুবাদ হয়েছে। অষ্টাদশ অঙ্কের ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ গানটি অনুবাদক অনুবাদ না করে পঞ্চম অঙ্কের ঠাকুরদার ‘আমার সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায়।/ আমি তার লাগি পথ চেয়ে আছি পথে যে জন ভাসায়।/ যে জন দেয় না দেখা, যায় যে দেখে- ভালোবাসে আড়াল থেকে-/ আমার মন মজেছে সেই গভীরের গোপন ভালোবাসায়’ গানটি এ অঙ্কে সংযোগ সাপেক্ষে অনুবাদ করেছেন। অনুবাদটি :

I am waiting with my all in the hope of
losing everything.
I am watching at the roadside for him
who turns one out into the open
road,
Who hides himself and sees, who loves
you unknown to you,
I have given my heart in secret love to
him,
I am waiting with my all in the hope of
losing everything.

এ গানটির সংযোজন এ অঙ্কটিকে শুধু নয়, গোটা অনুবাদটির প্রাণসঞ্চার করেছে। উনবিংশ অঙ্কের ৩১টি সংলাপের মধ্যে ৩০টি অনূদিত হলেও, সুরঙ্গমার দু’টি গান : ‘অন্ধকারের মাঝে আমায় ধরেছ দুই হাতে’ ও ‘ভোর হল বিভাবরী, পথ হল অবসান’ অনূদিত হয় নি। বিংশতি অঙ্কের ৭টি সংলাপ অনুবাদের মধ্য দিয়ে ক্ষিতীশচন্দ্র সেন তাঁর The King of the Dark Chamber শেষ করেন। মূল নাটকে রাজা ও সুদর্শনার সর্বশেষ সংলাপ :

রাজা। আজ এই অন্ধকার ঘরের দ্বার একেবারে খুলে দিলুম-
এখানকার লীলা শেষ হল। এসো, এবার আমার সঙ্গে এসো,
বাইরে চলে এসো – আলোয়।
সুদর্শনা। যাবার আগে আমার অন্ধকারের প্রভুকে, আমার নিষ্ঠুরকে,
আমার ভয়ানককে প্রণাম করে নিই।

ক্ষিতীশচন্দ্রের অনুবাদ :

King
I open the doors of this dark room
to-daz –the game is finished here?
Come, come with me now, come out-
side – into the light!
Sudarshana
Before I go, let me bwo at the feet
of mz lord of darkness, mz cruel, mz
terrible, mz peerless one!

রবীন্দ্রনাথের রাজা কালিয়া জনপদের প্রথম আই.সি.এস. ক্ষিতীশচন্দ্র সেনের হাতে The King of the Dark Chamberনামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছিলো; এ সত্যতা প্রমাণিত হলেও, নানা কারণে অনুবাদক ক্ষিতীশচন্দ্রে কোনো স্বীকৃতি মেলে নি।

তথ্যসূত্র :
১. বিনয়কুমার দাশগুপ্ত, কুল-দর্পণ, তৃতীয় খ- (কলকাতা: কালিয়া নিবাস, ব্যারাকপুর, ১৯৬৭), ভূমিকা পৃ. ১০
২. প্রাগুক্ত, প্রথম খ-, পৃ. ৩৬
৩. The Bombz Civil List, Corrected upto 1st Julz 1913 (Bombz: Superintendent, Government Printing and Stationarz, Bombz), p. 50-51
৪. Ibid, p. 172A-172B
৫. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনী ও সাহিত্য-প্রবেশক, দ্বিতীয় খ- (কলকাতা: বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগ, ১৪০৬),পৃ. ৪০৫
৬. সুকুমার সেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ৩য় খ- (১ম সং) ১৩৫৯ সাল, পৃ. ১৮৬
৭. সুবোধ সেনগুপ্ত, রবীন্দ্রনাথ (কলকাতা: এম.সি.সরকার অ্যান্ড সন্স প্রা.লি. ১৩৭৭),২৪৭-৪৮
৮. শিবানী রায়, ‘শতবর্ষের আঙিনায় রবীন্দ্রনাথের রাজা’, ভারতবিচিত্রা, মে ২০১০, পৃ. ১৮
৯. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রাগুক্ত, পৃ. ৪২৯
১০. রবীন্দ্র-পত্রাবলী : তথ্যপঞ্জী, পৃ. ১৪৪
১১. শিবানী রায়, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮
১২. নিত্যপ্রিয় ঘোষ, ডাকঘরের হরকরা (কলকাতা : প্রমা ১৯৮৫), পৃ.৪৮
১৩. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রাগুক্ত,পৃ.৪০৪
১৪. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রাগুক্ত,পৃ. ৪১৯,৪২১
১৫. শিবানী রায়, প্রাগুক্ত, পৃ.১৮
১৬. রবীন্দ্র-পত্রাবলী : তথ্যপঞ্জী, পৃ.২৩৪
১৭. রবীন্দ্র-পত্রাবলী : তথ্যপঞ্জী, পৃ.৩০৩

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg

সুরঞ্জন রায়,
সহকারি অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ : শহীদ আ. সালাম ডিগ্রি কলেজ,
কালিয়া, নড়াইল।

About S M Tuhin

দেখে আসুন

বীররসের শিল্প-সাহিত্য এবং চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান : আমিনুল ইসলাম

বীররসের শিল্প-সাহিত্য এবং চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান আমিনুল ইসলাম ‘জানি কবিতার চেয়ে তুমি সুন্দরতমওগো মোর …

9 কমেন্টস

  1. Dr. Sandipak Mollick

    অনন্য মগ্নতার প্রভিভাস ! ইতিহাসসন্দীপনা, বস্তুনিষ্ঠ মগ্নতা, সমান্তরাল সৃজনশুদ্ধি সুরঞ্জনের চারিত্রদীপ্তি !

  2. I have found great posts here. I like the method you explain. Nice!

  3. http://prednisonebuyon.com/ – prednisone india pharmacy

  4. Online Hydrochlorothiazide 12.5mg Order Next Day Delivery

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *