বৈশাখী উৎসব ও মেলা ; বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি, বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী শক্তি : অরবিন্দ মৃধা

বৈশাখী উৎসব ও মেলা ; বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি, বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী শক্তি

This image has an empty alt attribute; its file name is 1460033891.jpg

অরবিন্দ মৃধা

বাংলা নববর্ষ বরণ, আনন্দ-উৎসব এবং বৈশাখী মেলা বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব, শিকড়ের উৎসব। বাংলার প্রাচীন সংস্কৃতি এবং বাঙালির আত্মপ্রত্যয়ী শক্তি সঞ্চারের উৎসব।

কালবহু আগে থেকে কৃষিভিত্তিক জীবন যাত্রায় বর্ষার আগমনকে প্রকৃতির আর্শিবাদ ভেবে প্রাকৃত অধিবাসিগণ পুরাতন বছরের সব গ্লানি, কষ্ট, ব্যর্থতা মুছে কৃষিজ-সমৃদ্ধ জীবন জীবিকার উৎস; চাষ কার্যের মাধ্যমে ধান উৎপাদনের আশায় হালচাষ শুরুর সময হিসেবে চিহ্নিত করে আগত নতুন বর্ষাকে বছরের হালচাষের সুচনা; বা ‘ হালপুটনে’র মাধামে নতুন বর্ষাকে বরণ করেছে। একাজের জন্য নিদিষ্ট একটি দিনক্ষণ নির্ধারন করে কৃষি কাজের উপকরণ যথা-লাঙল-জোয়াল,গরু দ্বারা নতুন উৎসবের সাজে হালচাষের সুচনা করে ঐ সময়টাকে নতুন বছর রূপে চিহ্নিত করেছে।

বাংলাদেশের প্রাচীন, মধ্যযুগ এমনকি চলমান যুগেও গ্রামীণ জনপদের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সকাল বেলায় পান্তা ভাত খাওয়ার প্রচলন দেখা যায়। আদিম কৃষককূল নতুন ফসল ফলানো মৌসুমের শুরু’র দিনটি নিয়মাচারের অংশ হিসেবে হালপুটনে রূপে চিহৃত করেছেন। এদিন তাঁরা ভক্তি সহকারে আমানি-পান্তা ভক্ষণ এবং হালচাষ উদ্বোধণের মধ্য দিয়ে নতুন চাষবর্ষ বা হালবর্ষকে গ্রামীণ সংস্কৃতির আঁদলে বরণ করেছে। পঞ্জিকায় তিথি নক্ষত্র দিনক্ষণ দেখে ‘হালপুটনে’ বা হালচাষ উদ্বোধনের এই ধারা বিশেষ করে আদিম পৌণ্ড্র কৃষক জনগোষ্ঠির মধ্যে বিদ্যমান।এই ভাবে বর্ষাবরণ থেকে বর্ষবরণের উদ্ভব হয়েছে।

প্রকৃতির বিভিন্ন রূপের সাথে মানুষ আদিম যুগ থেকে পরিচিত হয়েছে। প্রচণ্ড রৌদ্র ও খরাভেদ করে প্রকৃতিতে যখন ঝড়-ঝঞ্ঝা সাথে নিয়ে বর্ষার আগমন ঘটেছে এবং ভুমিতে শস্যদানা অংকুরিত হয়েছে,সেই সময়কে আদিম কৃষককূল শস্য ফলানোর সময় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং বর্ষাকে তাঁদের মতো করে কৃষিজ উপকরণ দ্বারা বরণ করে নিয়েছেন। বাঙালি কৃষকের এই হালবর্ষ বা বর্ষাবরণ কালে কালে বর্ষবরণ বা বৈশাখ বরণে এসে থিতু হয়েছে।

কৃষিভিত্তক জীবনযাত্রার যুগ থেকে পণ্য বিনিময় প্রথার মাধ্যমে মেলার উদ্ভব হয়েছে। বর্ষবরণ পার্বণ ও উৎসবের সাথে মেলার একটা নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। অতীতে মানুষ তাঁর তৈরী পণ্য সামগ্রী প্রদর্শন ও বিনিময়ের লক্ষ্যে পার্বণ বা উৎসব স্থলে অংশ গ্রহণ বা মিলিত হতো। উদ্দেশ্য স্বজনের সাথে মিলিত হওয়া এবং তৈরী পণ্য সামগ্রী অন্যকে প্রদর্শন করা। লোকজ প্রবাদে যাকে বলা হয়, ‘রথ দেখা এবং কলা বেচা।’ মানুষের এই প্রকার কর্মকাণ্ড থেকে মেলার উদ্ভব হয়েছে, এবং উদ্ভাবনী শক্তির উন্মেষ ঘটেছে। মানুষ একে অন্যের সাথে মিলিত হয়েছে, সংগঠিত হয়েছে। মত বিনিময়ের মাধ্যমে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলের খবর জেনেছে। মানুষে মানুষে পরিচয় হয়েছে, মিলন হয়েছে, ভালো-মন্দ বিচার করতে শিখেছে, ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের আত্ম প্রত্যয়ী শক্তি সঞ্চয় হয়েছে, জীবন গতিময় হয়ে উঠেছে।

একারণে বলা যায়, হালবর্ষ বরণ বা বর্ষবরণ, ফসল উৎপাদন, শিল্পজাত পণ্য তৈরী, প্রদর্শন, বিনিময়, বিকিকিনি, এবং মেলা বাঙালি জাতির প্রাচীন সংস্কৃতি একটি শক্তিশালী ধারা।

নববর্ষ ও মেলার প্রাচীনত্ব প্রসংগে ড. মুহম্মদ এনামুল হক বলেছেন, “আমাদের দেশের নববর্ষের মেলা গুলোও এদেশের প্রাচীনতম ‘অর্তব-উৎসব’ ও ‘কৃষ্যুৎসব’ প্রভৃতির বিবর্তিত রূপ ব্যতীত আর কিছুই নয়।”

অন্যতম ফোকলোরবিদ্ শামসুজ্জামান খান বলেছেন, ‘মেলা বিহীন কোন বাংলাদেশের অস্তিত্ব আমরা কল্পনাও করতে পারিনা। বাংলাদেশে যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণ আছে তেমনি আছে নানা উপলক্ষ্যের দশ সহস্রাধিক ছোট বড় গ্রামীন মেলা।’

আবুল হাসান চৌধুরী তাঁর ‘বাংলাদেশের মেলা’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী মেলার চল বেশ পুরনো। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন, বাংলা একাডেমী এবং লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত আয়োজনে বৈশাখী মেলা নতুন মাত্রা পেয়েছে।’ (বাংলা একাডেমীর ফোকলোর সংকলন, পৃষ্ঠা : ৬০-৬১) তিনি আরো বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বেশিরভাগ মেলাই ধর্মীয় উপলক্ষে প্রবর্তিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের রথযাত্রা, দোলযাত্রা, ঝুলনযাত্রা, দূর্গাপূজা, কালীপূজা, জন্মাষ্টমী, পৌষ সংক্রান্তি, চৈত্র সংক্রান্তি, শিবরাত্রি, সাধু-সন্তের জন্ম-মৃত্যুর স্মারক দিবস ইত্যাদি উপলক্ষে মেলা বসে।’ (পূর্বোক্ত পৃষ্ঠা- ৫৮)

মানুষ পাহাড়ের গুহা, গাছে ছায়ায় বসবাসের যুগ পার করে যখন ঘর নির্মাণ এবং শিল্পকর্ম উদ্ভাবন কৌশল আয়ত্ব করলো, সেই বাস্ত-বিদ্যা, শিল্পবিদ্যার যুগকে আমরা মানব সভ্যতার প্রথম ধাপ রূপে চিহ্নিত করতে পারি। প্রাচীন যুগ থেকেই বাংলাদেশে ভাস্কর্য, স্থাপত্য, চারু শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।

আমাদের দেশের প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার, বাসু বিহার, শালবন বিহার, ওয়ারি বটেশ্বর, বারোদুয়ারি, সীতাকোট বিহার, জগদ্দল বিহার,ভরতভায়না,সহ দেশের অসংখ্য প্রাচীন ও মধ্যযুগের মন্দির, মসজিদ গুলি সেই স্বাক্ষ্য বহন করে চলেছে। প্রত্নতাত্তিক খননে এই সব স্থানে ‘আবিস্কৃত হয়েছে অসংখ্য কুটির শিল্পজাত দ্রব্যের ভগ্ন অংশ। যেমন- পোড়ামাটির ফলক, পোড়ামাটির সূর্য, ঢালাই মুদ্রা, মাটির ব্যবহার পাত্র, খেলনা অলংকার, ছাঁচ, কালোপাথর, জালের কাঁটি, ধাতবদ্রব্য- বিভিন্ন প্রকার মূর্তি ইত্যাদি। বাঙালি জাতির পূর্বসুরীগণ সেই প্রাচীন কাল থেকে নিজ প্রয়োজনে এই সকল শিল্পকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। সে ধারাবাহিকতায় আজও গ্রামীন মেলায় হস্তশিল্পীগণ নিজের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের হস্তশিল্প জাত পণ্য নিয়ে পসরা সাজায়।

বাংলা-ভাষা, স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেমন আন্দোলন সংগ্রাম এবং রক্ত দিতে হয়েছে, তেমনি বাঙালির পার্বণ-মেলা, সঙ্গীত-সংস্কৃতিকে ধারণ পালনের জন্য রক্ত ঝরাতে হয়েছে। হাজারও বছর ধরে পরাধীনতার শৃংখল বাঙালি জাতিকে বন্দি করে রেখেছিল। ১৯৫৪ খ্রিঃ নির্বাচনে জয়ী হয়ে, ‘যুক্তফ্রন্ট সরকার ও তার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে ফজলুল হক বাংলা নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করে বাঙালির জাতি গঠন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশ দান করেন এবং সে বছর বিপুল উৎসাহে বাঙালি তার নববর্ষ উৎসব উদযাপন করে।’ (সূত্র : ফোকলোর চর্চা : শামসুজ্জামান খান- পৃ ১৭) তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, … ‘বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলন তার রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদী ও স্বাধিকার আন্দোলনের তীব্র চাপে …(১৯৬৪ সালে) প্রাদেশিক সরকার বাংলা নববর্ষে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।’ (পৃষ্ঠা-১৮)

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের দুরদর্শিতা এবং দেশ প্রেমের অনন্য নিদর্শন হলো কুটির শিল্প উন্নয়নের জন্য বিসিক প্রতিষ্ঠা। এখন থেকে ৬৪ বছর পূর্বে প্রাদেশিক পরিষদ সংসদে বিল পাশের মাধ্যমে তিনি পূর্ব পাকিস্থান সরকারের সর্বকনিষ্ঠ শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী থাকাকালে ১৯৫৭ খ্রি. বিসিক প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বুঝে ছিলেন, বাঙালির পূর্বসূরীগণ প্রাচীনকাল থেকে শিল্পসংস্কৃতি লালন পালন করে আসছে। তাই পল্লীর গরীব দুখিঃ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হলে, কুটির শিল্পের উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন। বলা যায় এটি তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সোনার মানুষ গড়ার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।

বাংলার গ্রামীণ মেলার পসরার অন্যতম উপকরণ হলো কুটির শিল্পজাত পণ্য। বিসিক প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা ভাবে কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে কাজ করে আসছে। শুষ্ক মৌসুমে এ জনপদের গ্রামে মহল্লায় কোন না কোনো পার্বণ উপলক্ষে মেলা বসে। সেসব মেলায় কুটির শিল্পজাত পণ্য আজও অন্যতম নিদর্শন। বিসিক এসব মেলার কুটির শিল্প মালিকদের অনেককেই আর্থিক সহযোগিতা, বিপনন, প্রযুক্তিজ্ঞান সহ নানা ভাবে প্রনোদনা দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে বিসিকের পরিচালক (বিপনন ও নকশা) জীবন কুমার চৌধুরী জানান, ‘দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পজাত উৎপাদিত পণ্য বিপনন সুবিধার লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে বর্তমানে সরকারী ব্যবস্থায় মেলার আয়োজন করা হয়। এর পাশাপশি শ্রীলঙ্কা, ভারত, নেপাল সহ বহিঃ বিশ্বের কয়েকটি দেশের শিল্পমেলা এবং বাজারে বাংলাদেশের শিল্পপণ্য উপস্থাপন করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চৈত্র সংক্রান্তির পার্বণকে অবলম্বন করে বাঙালি জাতির ১লা বৈশাখ নববর্ষ উৎসব সৃষ্টি হয়েছে। চলমান সরকার নববর্ষ ভাতা চালু করে বৈশাখ বরণকে জাতীয় উৎসবে রূপ দিয়েছে।’

বিসিক গ্রামীন শিল্প মেলাকে নাগরিক জীবনে প্রাণবন্ত করে তোলার লক্ষে ১৩৮৫ বঙ্গাব্দ থেকে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে কুটির শিল্পজাত পণ্য বেচা-কেনা এবং জনপ্রিয় করে তোলার জন্য বৈশাখী মেলার আয়োজন করে চলেছে।

নতুন বছরকে নানা আনুষ্ঠানিকতায় বরণ করা বাঙালির প্রাচীন সংস্কৃতির অংশ। নানা প্রতিকূল পরিবেশেও মানুষ দিনটি পালন করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা নববর্ষ পালনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে ১৪২৩ বঙ্গাব্দ থেকে বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদানের প্রচলনের মাধ্যমে বর্ষবরণকে ঐতিহ্যবাহী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে দিবসটিকে মহিমান্বিত করে তুলেছেন।

১৩৭৪ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান জেলে থাকা অবস্থায় কিভাবে নববর্ষ পালন করেছিলেন সে বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেছেন :

আজ বাংলা নববর্ষ ১৫ই এপ্রিল। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি নূরে আলম সিদ্দিকী, নুরল ইসলাম আরও কয়েকজন রাজবন্দি কয়েকটা ফুল নিয়ে ২০ সেল ছেড়ে আমার দেওয়ানীতে এসে হাজির। আমাকে কয়েকটা গোলাপ ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাল। ২৬ সেল হাসাপাতাল থেকে বন্ধু খোন্দকার মোশতাক আহমদও আমাকে ফুল পাঠাইয়াছিল। আমি ২৬ সেল থেকে নতুন বিশ সেলে হাজী দানেশ, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, হাতেম আলি খান, সিরাজুল হোসেন খান ও মৌলনা সৈয়াদুর রহমান সাহবে, ১০ সেলে রফিক সাহেব, মিজানুর রহমান, মোল্লা জালালউদ্দিন, আবদুল মোমিন, ওবায়দুর রহমান, মহিউদ্দিন, সুলতান, সিরাজ এবং হাসপাতালে খোন্দকার মোশতাক সাহেবকে ফুল পাঠাইলাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে। শুধু পাঠাতে পারলাম না পুরানা হাজতে, সেখানে রণেশ দাশগুপ্ত, শেখ ফজলুল হক (মণি)- আমার ভাগনে, হালিম, আবদুল মান্নান ও অন্যরা থাকে এবং ১/২ খাতায় যেখানে শ্রমিক নেতারা, ওয়াপদার কর্মচারী ও কয়েকজন ছাত্র থাকে। তাদের মুখে খবর পাঠাইলাম আমার শুভেচ্ছা দিয়ে। … বিকালে পুরানা বিশ সেলের সামনে নূরে আলম সিদ্দিকী, নূরুল ইসলাম ও হানিফ খান কম্বল বিছাইয়া এক জলসার বন্দোবস্ত করেছে।

বাবু চিত্তরঞ্জন সুতার, শুধাংশু বিমল দত্ত, শাহ মোয়াজ্জেম আরও কয়েকজন ডিপিআর ও কয়েদি, বন্দি জমা হয়ে বসেছে। আমাকে যেতেই হবে সেখানে, আমার যাবার হুকুম নাই তবু আইন ভঙ্গ করে কিছু সময়ের জন্য বসলাম। কয়েকটা গান হলো, একজন সাধারণ কয়েদিও কয়েকটা গান করল। চমৎকার গাইল। …ছোট হলেও জলসাটা সুন্দর করেছিল ছেলেরা। আমি কারাগার থেকে আমার দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।’

‘১০ সেল থেকে মিজানুর রহমান চৌধুরী আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাইয়া একটা টুকরো কাগজে নিম্নলিখিত কবিতাটা লিখে পাঠায় :

‘আজিকের নূতন প্রভাতে নূতন বরষের আগমনে
-মুজিব ভাইকে’
‘বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও,
ক্ষমা করো আজিকার মতো,
পুরাতন বরষের সাথে
পুরাতন অপরাধ যত।’
নববর্ষের শ্রদ্ধাসহ মিজান, ১লা বৈশাখ ১৩৭৪ সাল।

১৩৭৩ সালের বৈশাখ হতেই আমার উপর সরকারের জুলুম পুরাদমে শুরু হয়।’
(কারাগারের রোজনামচা : পাতা ২২২-২২৩)

এ তথ্য প্রমাণ করে যে, শত দুঃখ কষ্টের মধ্যে থেকেও বাঙালি জাতির পূর্বপুরুষগণ শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে নববর্ষ পালন করতেন।

প্রাচীনকাল থেকে বাঙলার জনগোষ্টি বহু খন্ডে খন্ডে বিভক্ত অঞ্চলের জাতি, উপজাতি, বর্ণ, গোত্র, সমাজে বিভক্ত ছিল। মেলা ও উৎসব সংস্কৃতিকে অবলম্বন করে তাঁরা একতাবদ্ধ হতে শিখেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আহ্বানে আজ অসাম্প্রদায়কি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ছায়াতলে তাঁরা একতাবদ্ধ হতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখী মেলা সকল জাতি, বর্ণ-গোত্রের মানুষকে এক বাঙালি জাতীয়তাবাদে গাঁথার একটি আত্মপ্রত্যয়ী শক্তি। তাই এ উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়।

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg
This image has an empty alt attribute; its file name is Arbido-Mridha-2.jpg

অরবিন্দ মৃধা
প্রাবন্ধিক, গবেষক

About S M Tuhin

দেখে আসুন

মুহম্মদ নূরুল হুদা ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তন : মজিদ মাহমুদ

মুহম্মদ নূরুল হুদা ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তন মজিদ মাহমুদ মুহম্মদ নূরুল হুদার কবিতা আদিম পৃথিবীর গল্প; সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *