নতুন পোস্ট

অনুরাধা রায়-এর সাক্ষাৎকার


সাক্ষাৎকার



অনুরাধা রায়-এর সাক্ষাৎকার


অনুরাধা রায় বর্তমান সময়ের একজন আলোচিত ঔপন্যাসিকের নাম। ভারতীয় এই ঔপন্যাসিকের সাম্প্রতিক উপন্যাস ‘অল দ্য লাইভস উই নেভার লিভড’ (All the Lives We Never Lived) । এই উপন্যাসের গল্প বুননে অনুরাধা রায় ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ণ ও বাস্তব কিছু চরিত্রকে কাল্পনিক চরিত্রের মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।  আর সেই চরিত্রগুলোর মধ্যেই তিনি এঁকেছেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অশান্ত সময়ের ত্যাগ,স্মৃতি,দ্বন্দ্ব, যুদ্ধ ও স্বাধীনতার কথা। তিনি নারী-পুরুষের রুপান্তরিত জীবন, তাদের সংগ্রাম, স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের ধারণা এবং তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিকেও স্পর্শ করেছেন।

‘অল দ্য লাইভস উই নেভার লিভড’ বইটি ২০১৮ সালে ডিএসসি পুরষ্কারের জন্য বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ফিকশন হিসেবে বিবেচিত ১৬ টি গ্রন্থের মধ্যে ঠাঁই পায়। সাউথ এশিয়ান লিটারেচার নামক একটি প্রতিষ্ঠান এই পুরষ্কার দিয়ে থাকে। ডিএসসি পুরষ্কার আন্তর্জাতিকভাবে একটি সম্মানজনক পুরষ্কার এবং এটি শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার যেমন ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকার সাহিত্য ও এর আন্তর্জাতিক অবস্থানের উপর বিবেচনা করে দেয়া হয়ে থাকে।

সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসের সাথে অনুরাধা রায় কথা বলেছেন তাঁর উপন্যাস নিয়ে, ফিকশন এবং নন-ফিকশনের একিভূতীকরণ নিয়ে, তাঁর উপন্যাসে নারি চরিত্রদের নিয়ে এবং কেন তিনি এ্যলাইস মুনরোকে পছন্দ করেন-তাই নিয়ে।

লেখিকার সেই ইংরেজি সাক্ষাৎকারটি ম্যানগ্রোভ সাহিত্যের পাঠকদের জন্যে বাংলায় অনুবাদ করেছেন বাবলু ভঞ্জ চৌধুরী


আমরা জানি অল দ্য লাইভস উই নেভার লিভড উপন্যাসটি কাল্পনিক এবং বাস্তব চরিত্র সমন্বয়ে তৈরী একটি ঘটনাবহুল উপন্যাস। আপনার কাল্পনিক চরিত্রগুলি উপন্যাসে কীভাবে বাস্তব চরিত্রগুলো টেনে আনতে সহায়তা করেছে ?

অনুরাধা রায়: বইটি ইতিহাস, স্মৃতি ও কল্পনার মিশ্রনে লেখা। বাস্তব ও কাল্পনিক সব চরিত্রই  উপন্যাসের জগতটি গড়ে তুলেছে। আমি বাস্তব জীবনের সত্যগুলোকে ধরার চেষ্টা করেছি এবং ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোকে কাল্পনিক গল্পের মধ্যে এঁকেছি। কাল্পনিক ঘটনায় ঐতিহাসিক বাস্তব চরিত্রগুলো গুরুত্বপুর্ণ হয়ে ওঠে।

লেখা-লেখিতে নারী চরিত্রদের অবস্থান এখন কোথায়? নারী চরিত্র নির্মানে কাজ করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো কী? গায়ত্রী (আলোচ্য উপন্যাসের একটি চরিত্রের নাম) কে নিয়ে কি তেমন কোনো চ্যালেঞ্জে পড়েছিলেন?

অনুরাধা রায়: গায়ত্রী অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই এসেছে, পরিপুর্ণভাবে। যখন আমি ভাবতে শুরু করি তখন থেকেই একটা স্পষ্টবাদী এবং ব্যক্তিত্ববান নারী হিসেবেই সে উঠে এসেছে। তার সম্পর্কে একটা কঠিন বিষয় ছিল বালি থেকে তার বন্ধুকে লেখা ইংরেজি চিঠিগুলো। চিঠিগুলোতে তার এমন কথা রয়েছে -যে কথাগুলো ১৯৩০ সালের একজন নারীই বলত। মুল ঘটনা থেকে বর্ননাগত পরিবর্তন করতে হয়েছে। সেই পুরাতন সময়ে তার যে পারিপার্শ্বিকতা ছিল, তা এখনকার নিরিখে পরিবর্তন করতে হয়েছে। আমাকে সেই চিঠিগুলো পড়তে হয়েছে, সেই ঘটনাগুলো জানতে হয়েছে এবং লিখতে বসে আমাকে সেগুলো অনুধাবন করতে হয়েছে। পুরুষ ও নারী চরিত্র নির্মানের ক্ষেত্রে আমি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি।

পুরষ্কার ও প্রশস্তি কীভাবে একজন লেখকের পথকে উজ্জ্বল করে? আপনার কী কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা আছে?

অনুরাধা রায় : পুরষ্কার প্রাপ্তি একজন লেখকের কাজকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কাছে পৌছে দেয়।

আপনি ইংরেজি, হিন্দি ও বাংলায় কথা বলতে অভ্যস্ত। কোন ভাষায় আপনি চিন্তা করতে ভালোবাসেন?

অনুরাধা রায় :  বাংলা এবং ইংরেজী।

লেখালেখিতে সময়ের প্রয়োজন হয়। ডিএসসি পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন লেখককে ফুল-টাইম পেশাদার লেখক হতে আপনি কী পথ বাতলাবেন?

অনুরাধা রায় : সাধারণত আপনি লেখালেখিকে ফুল-টাইম প্রফেশন হিসেবে নিতে পারবেন না। সেটা এখানে হোক আর বিদেশে হোক। অধিকাংশ লেখকদের অন্য কাজ আছে। পশ্চিমে বেশিরভাগ লেখকরাই ক্রিয়েটিভ রাইটিং এর শিক্ষকতায় জড়িত। এখানেও লেখকরা ভিন্ন কিছু কাজের সাথে জড়িত।

বর্তমানে আপনি কী পড়ছেন? একসাথে আপনি কতগুলো বই পড়তে পারেন?

অনুরাধা রায় :  আমি এখন জ্যানেট ম্যালকমের “দ্য জার্নালিস্ট এন্ড দ্য মার্ডারার” বইটি পড়ছি। বইটি জার্নালিস্ট এবং তাদের সাবজেক্টের মধ্যে অস্বস্তিজনক সম্পর্ক নিয়ে লেখা। আমি একসাথে তিনটি বই পড়ার চেষ্টা করি।

কোনো বিশেষ লেখকের কাজকে কি আপনি টানবেন? যদি টানেন, কেন?

অনুরাধা রায় :  আমি এল্যাইস মুনরোকে পছন্দ করি। তাঁর ছোটগল্পের অস্পষ্ট অভিঘাতগুলো দীর্ঘদিন আমার মনের মধ্যে আকুলি-বিকুলি করে। গল্পে তিনি ছোট ছোট ঘটনাগুলো বৃহৎ বর্ণনায় সাজিয়ে এমন একদিকে নিয়ে চলেন যা অকল্পনীয়।

About S M Tuhin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *