কবিতা । অভিসার পর্ব : শুভ্র আহমেদ

শুভ্র আহমেদ

অভিসার পর্ব – ১

মালী জানে তার উদ্যানে কতটা বৃক্ষ, কতটা গুল্ম ; ঔষধি গাছ আছে কিনা তাও তার জানা।

মালী জানে তার উদ্যানের বৃক্ষগুলোর নাম। উদ্যানের কাছে মালীর নাম ঠিকানা অজানাই চিরকাল। বৃক্ষগুলোর কাছেও। শুধু স্পর্শের শিহরণ। তারা হেসে ওঠে কিন্নরী কন্ঠে পবনের শরীর ছুঁয়ে। স্পন্দনের শেষে ফুটিয়ে তোলে ফুল, ফলও।

বৃষ্টি ভিজিয়ে দেয় উদ্যানের সব বৃক্ষ। মালী রমনীয় যত্নে ভিজিয়ে তাদের করে তোলে সবুজ হর্ষের দুরন্ত কাঁটা, শজারু।

মালী কী তবে একপশলা বৃষ্টি। বৃষ্টি কী তবে ঠিকানাবিহীন মালী।

তারপরও ফুল ফোটে, ফলের হাতছানি। মালীর চোখে সুন্দরের কুহক, জোছনা।

সেই উদ্যান ভরা জোছনায় বৃক্ষ মালীর অভিসার।

অভিসার পর্ব – ২

বাইরের ঝড় প্রচণ্ড থেকে প্রচণ্ডতর হচ্ছে। বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে পরস্পরের জড়িয়ে ধরতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

কিছুক্ষণ আগে সামনের সরণি নামহীন হয়ে গেছে। পৌরপিতার শিহরণ নির্দেশে সে হয়েছে সম্মুখ সারির জারজ।

জন্মকথা বিষয়ে আমরা কিছুই জানি নে। জলঘড়ি কেবল মৃত্তিকার বুকে পা রেখে জানিয়ে যাচ্ছে ফেরার উপযুক্ত সময়।

আমরা দু’জন পরস্পরের জড়িয়ে রয়েছি। আমরা দু’জন ভয়ার্ত শুনতে পাচ্ছি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াবিহীন দাফন বিষয়ক নৈঃশব্দের স্তোত্রগান।

This image has an empty alt attribute; its file name is MANGROVE.jpg

অভিসার পর্ব – ৩

আমার সপ্তদশ পূর্বপুরুষ এক সন্ধ্যায় চায়ের অপেক্ষায় সন্ধ্যাতারার আলো দেখছিলেন।
তিনি যে, চা পানে অভ্যস্ত ছিলেন সে বিষয়ক তথ্যপ্রমাণ বহুদিন পূর্বেই অবলুপ্ত, লোপাট। তথ্যপ্রমাণ লোপাটে তৎকালীন শাসকের হাত ছিল কিনা এ বিষয়ে পূর্ববর্তী সবকটি তদন্ত প্রতিবেদন আজও তালাবদ্ধ।

চাবি বিষয়ক পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, বিশেষ চাবি হারিয়ে গেছে, সেটা আর মোটেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। চাবির খোঁজ বিষয়ে অবশ্য এক সদস্যের শক্তিশালী কমিটি গঠন করা গেছে।

আমার সপ্তদশ পূর্বপুরুষ সেই সন্ধ্যায় সন্ধ্যাতারার আলোয় তার স্ত্রীকে গর্ভবতী হতে দেখেছিলেন।

This image has an empty alt attribute; its file name is MANGROVE.jpg

অভিসার পর্ব – ৪

পরিপূর্ণ সূর্যমুখীর ছায়ায় একমাত্র আশ্রয়।

তন্দ্রাচ্ছন্ন মেঘগুলো ঘুমের দুর্বল উপত্যকায়। উপত্যকার সবটা জুড়ে বিষাদ। দ্বিমাত্রিক চিত্রকল্পে লেখা স্মৃতিকথার অর্ধেকটাই কেবল অনেক বিলম্বে পড়ার তালিকায় এসেছে।

সূর্য অনেক উচুতে। সূর্য এতোটাই উচুতে প্রতিধ্বনিগুলো ফিরে আসার পথে অনেক আগেই পরিশ্রান্ত। রোদের ঝুমঝুমি বাজিয়ে নিঃসঙ্গ দুপুরগুলো কেবল নিজেকেই শাসনে ব্যস্ত।

উঁকি দিয়ে দেখা তারপরে সূর্যছায়ায় এক হয়ে লুটিয়ে পড়া, এটাই ছিল সেদিনের বলা গল্প।

This image has an empty alt attribute; its file name is MANGROVE.jpg

অভিসার পর্ব – ৫

সর্বত্রই দুরত্ব স্হির হয়ে আছে।

নদীর নিস্তেজ ঢেউগুলো ভেঙে পড়ার আগে শব্দহীন আর্তনাদে অনতিক্রম দুরত্বের বিষয়ে অবিরাম নছিহত করে গেছে। সেটাই আপাতত শেষ কথা। শেষের বিচারে শেষ কথার শেষ নেই কে যেনো বলেছিলেন তাই এখনো তোমার বাঁকা ঠোঁটের বর্ণমালা একটু একটু করে লিখে নিয়ে যাই।

নৈমিত্তিক হিসেবের খাতা বন্ধ রেখে শামুকের মতো গুটি গুটি গড়িয়ে চলার রাস্তায়, যদি বৃষ্টিবিহীন ব্যাঙের ডাকে ঝুপ করে নেমে আসে বৃষ্টির সন্ধ্যা, জেনে নিও সম্পর্কের ইতিবৃত্তে সেটাই আমার একমাত্র নিকটতম তর্জমা।

This image has an empty alt attribute; its file name is MANGROVE.jpg

শুভ্র আহমেদ

জন্ম : ০৩ অক্টোবর ১৯৬৬

প্রকাশিত বই

কার্নিশে শাল্মলী তরু : কবিতা : ১৯৯৯, আড্ডা
বিচিত পাঠ : প্রবন্ধ : ২০১৪, ম্যানগ্রোভ
বলা যাবে ভালোবেসেছি : কবিতা : ২০১৫, ম্যানগ্রোভ
দুই ফর্মায় প্রেম ও অন্যান্য কবিতা : কবিতা : ২০১৬, ম্যানগ্রোভ
রবীন্দ্রনাথ যেভাবে বাঁশি বাজিয়েছেন এবং অন্যান্য : প্রবন্ধ : ২০১৯, ম্যানগ্রোভ

পুরস্কার / সম্মাননা
কবিতাকুঞ্জ সম্ম্ননা (১৪০৮ ব)
বিজয় সাহিত্য পুরস্কার (২০০৯)
কবি শামসুর রাহমান পদক (২০১০)
দৈনিক কালের কণ্ঠ শিক্ষক সম্মাননা (২০১২)
কবি সিকানদার আবু জাফর স্বর্পদক (২০১৪)

লেখকের আরও লেখা :

সাবদার সিদ্দিকি : একজন ক্রুশকাঠহীন যিশু – শুভ্র আহমেদ

রবীন্দ্রনাথ আছেন, রবীন্দ্রনাথ কী সত্যি আছেন : শুভ্র আহমেদ

কবিতা : শুভ্র আহমেদ

About S M Tuhin

দেখে আসুন

কবিতা : আশুতোষ সরকার

আশুতোষ সরকার আজ আমি কোথাও যাবােনা আজ আমি কোথাও যাবােনা আসুক যতই কর্তব্যের অমােঘ ডাকসুবেহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *