আমি কি আপনার স্বামী : গাজী আবদুর রশীদ

রম্যগল্প

আমি কি আপনার স্বামী

গাজী আবদুর রশীদ

ব্যাগটি আমার স্বামীর (সুহারে’র)। তাহলে আমি কি আপনার স্বামী?
সকালটা শুরু হয়েছিল এভাবেই কথামালার মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী এক ইরানি সুন্দরী নারীর সাথে।

প্রতিবেশী মানে দুটো বাড়ির পরের বাড়িতে থাকেন। কোনোদিন তাঁর সাথে দেখা হয়েছে অথবা কথা হয়েছে তেমনটি নয়। তারপরও আজ অনাকাঙ্খিতভাবে ভীষণ এক কাণ্ড ঘটে গেল সাত সকালেই। যে-কাণ্ডের ফলে অচেনা অজানা এক ইরানি নারী হয়ে গেলেন আমার স্ত্রী আর আমি তাঁর স্বামী।

একটি ব্যাগ! কোন্ সে ব্যাগ আর কী সেই ঘটনা যেজন্য এভাবে পরস্পরের মধ্যে কথা বিনিময় হয়েছিল সেদিনের সকালে!

আসলে সেই সকালটা আমার জন্যে শুভ সকাল ছিল না। অনেক ছোট ছোট ঘটনাও মনকে তেতো করে ফেলে কখনও কখনও। আবার মাত্র কোনো একটি কথা, একফালি বিকেলের মতো হাসি যেন সুখের নহর বইয়ে দেয় মনোজগতে। মন বড় বিচিত্র এক জগত। এই বিশ্বজগতের চেয়ে ঢের বড় আর বিচিত্র। ওর মধ্যে কখন কি খেলে যায় বলা কঠিন। কখন যুদ্ধ, কখন সন্ধি আর কখন শান্তি সে কেবল সেই’ই জানে। কোথা থেকে কোথায় কখন ঘুরে বেড়ায় মনটা তার নিয়ম-কানুন বালাই কিচ্ছু থাকে না। দে ছুট বললে সেকেন্ডে গোটা মহাবিশ্ব পরিভ্রমণ করে আসে।

হ্যাঁ তারপর যা ঘটেছিল সে কথায় যাব কিন্তু তার আগে একবার ভেবে দেখুন তো, প্রতিদিন কতশত ঘটনা ঘটে– তার কতোটাই বা আমরা মনে রাখি। বেশিরভাগ ঘটনা তো হারিয়ে যায় কোনো কোনোটা ভেসে যায় টোকা শেওলার মতো। তবে কোনো কোনো ঘটনা স্মৃতিতে থেকে যায়। মনে হলে যেন একেবারে সেদিনের সেই স্মৃতি ছবি জ্বলজ্বল করতে থাকে। সেরকমই একদিনের একটি ঘটনা।

রাগে গরগর করতে করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিসের ব্যাগটায় ভরে নিয়ে ঘর থেকে বের হলাম। মা সবে কিছুদিন হলো ইরানে এসেছেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় মাকে ছাড়াই কেটেছে। সেই তের/চৌদ্দ বছর বয়সে ঘর ছাড়া হয়েছিলাম তারপর কালেভদ্রে মার কাছে ফেরা হতো। তাই মা’র জন্য মনটা বড় ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তারপর বিদেশ বিভুঁইয়ে এসে সেই ব্যকুলতা আরও বেড়ে গেল। মাকে বড় জোরাজুরি করে ইরানে নিয়ে এলাম আমার কাছে। ছেলেমেয়ে দুজনই ওর দাদিকে (বুজান বলে ডাকে) পেয়ে মহাখুশি। আর আমার তো খুশির অন্ত নেই। আমার বউও ছোটকালে তাঁর মাকে হারিয়েছিল তাই আমার মাকে মায়ের চোখেই দেখে। আদর-যত্মের কোনো কমতি রাখে না। এভাবেই চলছে বিদেশে মাকে কাছে পেয়ে আমাদের সুখের দিনগুলো।

মার চোখের সমস্যা হচ্ছিলো সেই দেশে থাকার সময়েই। তাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আগে মায়ের চোখের চিকিৎসাটা করাব। কিন্তু বিদেশে চিকিৎসার বিষয়টি বেশ ব্যয়বহুল যদি না স্বাস্থ্যবীমা থাকে। সেকারণে দ্রুত স্বাস্থ্যবীমা করা নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করছি গত কয়েকদিন ধরে।
মা’র স্বাস্থ্যবীমার কাগজপত্র তৈরি করার জন্য আজ সংশ্লিষ্ট কমপক্ষে তিনটি দপ্তরে যেতে হবে। সেখানে যে কতটা সময় লাগবে সে সম্পর্কেকোনো ধারণা নেই। তারপর অফিসে ছুটতে হবে। তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে বের হব ঠিক তখন বউ বললো, নাশতার রুটি নেই, দোকান থেকে রুটি কিনে দিয়ে যেও।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই কোনো কিছু কিনতে যাওয়া বিশেষ করে নাশতার জিনিষপত্তর কিনতে যাওয়া আমার কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর একটি কাজ। বারবার বলে রেখেছি, কোনো কিছু দরকার থাকলে আগের রাতে বলবে আমি এনে রাখব কিন্তু সাত সকালে আমাকে দোকানে পাঠাবে না। কে শোনে কার কথা! পই পই করে বলার পরও সেই একই কাজের পুনরাবৃত্তি। মাও আমার সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠেছিল। যদি নাশতার জন্য রুটি পনির ও অন্যান্য খাবার জিনিষ না কিনে রেখে যাই তাহলে মার কষ্ট হবে। ভীষণ রাগ হলেও ভাবলাম একেবারে রেডি হয়ে বের হই জিনিষগুলো কিনে দিয়েই ছুটব। কিন্তু বিধিবাম। যখন দ্রুত কোনো কিছু করার চেষ্টা করা হয় তখন নানাভাবে তাতে বাগড়া পড়ে। বিলম্ব হয় এবং বিরক্তিও বাড়ে।

গেট থেকে বেরিয়ে ১০০ গজ দূরের দোকানে যাবার জন্য জোরে পা চালাচ্ছি আর হাতে অফিসের ব্যাগ। হাত থেকে হঠাৎ ব্যাগটা ছাড়িয়ে পড়ে গেল রাস্তার উপর। রাগের পারদটা আরও চড়ল। কিন্তু কি আর করা। ব্যাগটা কুড়িয়ে হাতে তুলব ঠিক তখনই ঘটল ষোলোকলার উপর আঠারো কলা বিপত্তি।

যেখানে আমার হাত থেকে ব্যাগটা পড়ল ঠিক তার সোজাসুজি ৭ তলা একটি ভবনের তিন তলার জানালা থেকে এক নারী খানিকটা উঁচু স্বরে আমাকে ইঙ্গিত করে বলছে, ঐ ব্যাগটা তার।

ঠিক কোথা থেকে নারী কণ্ঠ ভেসে আসছে তা দেখার জন্য ব্যাগটা হাতে তুলে এদিক ওদিক তাকাতে থাকলাম। আবার সেই নারী কণ্ঠ ভেসে এল, ব্যাগটা আমার স্বামীর।

তাকিয়ে দেখি সামনের ভবনের তিনতলার জানালায় দাঁড়িয়ে এক নারী। মনটা সকালে এমনিতেই তেতো হয়ে ছিল এবার তাতে ঘৃত পড়ে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। কিন্তু তাতে তো আগুন নিভবে না। আমার ব্যাগ হয়ে গেল এক মহিলার স্বামীর যে কিনা আমারই প্রতিবেশীর স্ত্রী। আচমকা এমন দাবির কোনো কূলকিনারা করতে পারলাম না। এবার সেই নারী বললেন, আমি নিচে গেটে আসছি তুমি গেটের সামনে আস। তোমার হাতের ঐ ব্যাগটি আমার স্বামীর।

অগত্যা ব্যাগটি হাতে নিয়ে গেটের সামনে হাজির হলাম। মহিলাটি পড়িমরি করে নিচে নেমে গেট খুলে হাঁপাতে লাগল। তাকে দেখে বুঝলাম দুই দুই ধাপ একলাফে নেমেছেন তিনি। তা-নাহলে তার স্বামীর ব্যাগটা নিয়ে আমি যদি পালিয়ে যাই! হাঁপাতে হাঁপাতে ইরানি রমণী বললেন, ব্যাগটা দিন ওটা আমার স্বামীর! তখনও আমার মাথার মধ্যে ঘোর কাটেনি কি হচ্ছে আসলে! নিজেকে খানিকটা শান্ত রাখার চেষ্টা করে বললাম, আচ্ছা আপনি নিশ্চিত যে, এ ব্যাগটি আপনার স্বামীর! উনি দৃঢ়তার সাথে বললেন হ্যাঁ এই ব্যাগটাই আমার স্বামীর। আমি বললাম, তা কি করে হয়, এটি তো আমার ব্যাগ! মহিলাটি আবারও জোর দিয়ে বললেন, এ ব্যাগটা আমার স্বামীর। আমি জানতে চাইলাম, কিভাবে এ ব্যাগটি আপনার স্বামীর? ইরানি রমণীটি এবার বললেন, আমি জানালা দিয়ে দেখেছি আপনি রাস্তা থেকে ব্যাগটি তুলে নিচ্ছেন। আর কিছুক্ষণ আগে আমার স্বামীর গাড়ি থেকে ব্যাগটি পড়ে গেছে। সে আমাকে ফোন করে বলেছে তার ব্যাগটি কোথাও হারিয়ে গেছে। তারপরই আপনাকে দেখলাম ব্যাগটিকে কুড়িয়ে নিতে। ফলে ব্যাগটি তো আমার স্বামীরই ব্যাগ।

ও, আচ্ছা তাহলে ব্যাগটি আপনার স্বামীর-তাইতো! তো ব্যাগে তাহলে আপনার স্বামীর জরুরি জিনিষপত্র আই মিন কাগজপত্রসহ আরও অনেক কিছু থাকার কথা তাই না?

মহিলাটি বললেন হ্যাঁ, তাতো থাকবেই।

তখন আবারও বললাম, ব্যাগে পাসপোর্টও থাকার কথা-তাই না।

বললেন হ্যাঁ ছিল তো।

এবার আমি এক পা এক ধাপ সিঁড়ির ওপর রেখে সেই পায়ের ওপর ব্যাগটি রাখলাম। আর মহিলা তারও একধাপ উপরে ঠিক দরজার বাইরের ছোট্ট সমতল জায়গাটাতে দাঁড়িয়ে। ব্যাগটা খুললাম। ভেতরে থাকা আমার পাসপোর্ট বের করে বললাম,

এটাই তো আপনার স্বামীর পাসপোর্ট।

ভদ্রমহিলা তখনও সেই একই সুরে যেন ফড়ফড় করে বললেন, হ্যাঁ ওটা আমার স্বামীর পাসপোর্ট।

পাসপোর্টটা মহিলার হাতে দিয়ে চড়া মেজাজটা খানিকটা ঠান্ডা করে একটু রাগত মিষ্টি কণ্ঠে বললাম, পাসপোর্টটি যদি আপনার স্বামীর হয়ে থাকে তাহলে আমি কি আপনার স্বামী?

মহিলা রেগে বললেন, কী বলছেন আপনি!

বললাম, রাগছেন কেন? খুলুন পাসপোর্টটি দেখুনতো ছবিটা আপনার স্বামীর কি না?

একটুখানি অপ্রস্তুত হয়ে ভদ্রমহিলা পাসপোর্টের পাতা উল্টালো।

বললাম, দেখুন, ভালো করে দেখুন– তাহলে কোনো সন্দেহ নেই আমি আপনার স্বামী? কারণ পাসপোর্টটিতে তো আমার ছবি আছে তাই না?

এবার মহিলার মুখে আর কথা নেই।

বললাম, এখনও কি বলবেন এ ব্যাগটি আপনার স্বামীর আর আমিই আপনার স্বামী!

মহিলাটি রাঙামুখে পাসপোর্টটি আমার হাতে দিয়ে বললেন, (বেবাকশিদ, ওজখোইমিকোনাম) দুঃখিত, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি– এই বলে আমার হাতে পাসপোর্টটি দিয়ে দ্রুত দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেলেন।

This image has an empty alt attribute; its file name is 23579pppp-Copy.jpg

 

 

About S M Tuhin

দেখে আসুন

হেডস্যার আতঙ্ক : নেলী আফরিন

হেডস্যার আতঙ্ক নেলী আফরিন ০১. ‘কী আবদার! ইশকুলে যাবে না, উঁ-হ! রোজ রোজ এক অজুহাত …

7 কমেন্টস

  1. Teen Girls Pussy Pics. Hot galleries
    http://hardin.hardcore.porn.energysexy.com/?allyssa
    ass fat woman huge porn free mobile full porn movies big boobs tube porn injured people making porn mature porn site free

  2. Hot galleries, thousands new daily.
    http://blue.pornfairlea.sexjanet.com/?alexis
    free naruto porn doujins masterangel porn porn stars best nathral tits free tube porn search how to draw aname porn

  3. College Girls Porn Pics
    http://footjob.parker.adablog69.com/?aimee
    animap porn xj9 jenny porn heart porn squirter porn star justin riddick keisha porn teen

  4. Girls of Desire: All babes in one place, crazy, art
    http://haverhill.moesexy.com/?daisy
    free amateur porn tryouts free movies drrp throat porn sexy babes free picture porn latina orgies porn porn fidelity joslyn james torrent

  5. Big Ass Photos – Free Huge Butt Porn, Big Booty Pics
    http://high.resolution-photos.instakink.com/?ariel

    porn star jack spears danielle staub porn clip free big booty porn video porn star movie free forced homosexuality porn

  6. hire a killer – rent a killer, commander un tueur

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *